রাস্তা মেরামতের এক কোটি ৩৩ লাখ টাকা পানিতে!

আপডেট: 02:19:55 22/08/2017



img
img

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : অভয়নগরের নওয়াপাড়া-সুন্দলী সড়ক মেরামতের এক মাস না যেতেই খানাখন্দকে ভরে গেছে। উঠে যাচ্ছে পিচ-খোয়া। এর ফলে অভয়নগর-মণিরামপুর সরাসরি সংযোগ সড়কটিতে চলাচলে হাজারো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অভয়নগর উপজেলা প্রকৌশলীর প্রস্তাবনা অনুযায়ী বরাদ্দ না দেওয়ায় রাস্তাটির এই অবস্থা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। এক মাসের মাথায় রাস্তাটি আবার মেরামতের প্রস্তুতি চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক কোটি ৩৩ লাখ টাকা খরচ করে নওয়াপাড়ার নূরবাগ হয়ে সুন্দলী সড়কের পাঁচ হাজার ১১০ মিটার রাস্তা মেরামতের কার্যাদেশ দেওয়া হয় যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বজিৎ কনস্ট্রাকশনকে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ৩০ এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার আদেশ দেওয়া হয়। সে মোতাবেক কাজটি যথাসময়ে সম্পন্নও হয়। ঠিকাদারি ইতিমধ্যে পাঁচ শতাংশ নিরাপত্তাজনিত অর্থ বাদে পুরো বিল উঠিয়েও নিয়েছেন।
কিন্তু শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করায় জুলাই মাসের শেষ দিকে কয়েক দফা ভারি বৃষ্টির পর থেকে রাস্তাটিতে অসংখ্য খানাখন্দকের সৃষ্টি হতে শুরু করে। বর্তমানে গোটা রাস্তার কার্পেটিংয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। পিচ-খোয় উঠতে শুরু করেছে।
এর চার বছর আগে রাস্তাটি একবার মেরামত করা হয়েছিল। সেবারও এক বছরের মাথায় রাস্তার পিচ-খোয়া উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়। গত বছর ভবদহ অঞ্চলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে রাস্তাটি জলামগ্ন হয়ে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার যানবাহন চলাচলের পুরোপুরি অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে সাত কিলোমিটার ঘুরে যানবাহন চলাচল করতে থাকে বিকল্প সড়কে।
ইজিবাইক চালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘তিন বছর খানাখন্দকের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে হাঁফিয়ে উঠেছিলাম। এ বছর রাস্তা মেরামত হলে একটু স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু রাস্তা মেরামতের এক মাসের মাথায় দেখছি আবার খানাখন্দকে ভরে যাচ্ছে।’
রাস্তার পাশের নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন, হাফিজুর রহমান ও কামরুল সরদার অভিযোগ করেন, রাস্তায় নিম্নমানের ইট, খোয়া ও পিচ ব্যবহার করা হয়েছে। যে কারণে একটু বৃষ্টি হলেই ভারি যানবাহনের চাপে দেবে যাচ্ছে রাস্তা। আর ওখান থেকে খান্দাখন্দকে সৃষ্টি হচ্ছে।
তারা এই অবস্থার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে দায়ী করেন।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বিশ্বজিৎকুমার স্থানীয়দের অভিযোগ উড়িয়ে দেন।
তিনি বলেন, ‘আমি সঠিক নিয়মে কাজ করেছি। রাস্তায় ট্রাকটর দিয়ে চাষ দিয়ে খানাখন্দক সমান করে নিয়েছিলাম। ম্যাকাডাম করার কথা শিডিউলে ছিল না। ২৫ সেন্টিমিটার কার্পেটিংয়ের কাজ করেছি। ভারি বৃষ্টির কারণে রাস্তার পিচ উঠে যেতে পারে।’
আর রাস্তার কাজ চলাকালে দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী গৌতম হালদার বলেন, ‘আমরা উপজেলা থেকে প্রস্তাবনা করেছিলাম নতুন করে মেকাডাম করে সড়কটি মেরামতের কাজ করার জন্য। কিন্তু জেলা অফিস থেকে আমাদের প্রস্তাবনা বাদ দিয়ে মেকাডাম ছাড়া মেরামতের বরাদ্দ দেওয়া হয়। যে কারণে মেরামতের পর পরই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘ঠিকাদারের পাঁচ শতাংশ টাকা আটকানো আছে। আমরা দ্রুত রাস্তাটি পুনঃমেরামতের কাজ করবো।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী সরদার কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মাত্র কয়েক দিন আগে এসেছি। এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ আমি এখনো পাইনি। বিষয়টি আমার জানা নেই।’
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনদীপ ঘরাই বলেন, ‘বিষয়টি আমার এখতিয়ারের বাইরে। তবে এলাকাবাসী অভিযোগ করলে আমি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবো।’

আরও পড়ুন