রিকশাচালকের অদম্য মেধাবী সন্তান জাহিদ

আপডেট: 02:38:20 18/05/2018



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : জাহিদ হাসান এবছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর রোস্তম আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
জাহিদের এই কৃতিত্বে বিশেষভাবে আনন্দিত পরিবারসহ প্রতিবেশী ও স্কুলের শিক্ষকরা। কারণ জাহিদ এমন একটি পরিবারের সন্তান, যে পরিবার থেকে এমন ফলাফল অর্জন খুবই কঠিন, অভাবনীয়।
জাহিদ হাসান কালীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাঘপুর গ্রামের শাজাহান আলীর বড় ছেলে। মা জাহানারা বেগম। জাহিদের একটি ছোট ভাই ও একটি বোন রয়েছে। ছোট ভাই একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা যশোর শহরে রিকশা চালান। সম্পত্তি বলতে পাঁচ শতক জমি। তার ওপর এক ছোট্ট একটি ঝুপড়ি ঘরে কোনো রকমে তাদের বসবাস। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠা জাহিদ মেধা আর অধ্যবসায় দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে। এরআগে প্রাথমিক সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষায়ও সে জিপিএ-৫ অর্জন করে।
জাহিদদের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, গ্রামের এক বাড়িতে প্রাইভেট পড়াতে গেছে জাহিদ। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা। বাড়িতে আসে সে। জিজ্ঞেস করতেই তার উত্তর, ‘কলেজে ভর্তির টাকা জোগাড়ে বাবাকে সহযোগিতা করতে প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেছি।’
জাহিদদের ঝুপড়ি ঘরের সামনে একটি গাবগাছতলায় বসে কথা হয় তার বাবা-মা ও বড় চাচা গোলাম মোস্তফা মিঠুর সঙ্গে।
জানা যায়, রোগ-শোক আর অভাব অনটনের সংসারে দুবেলা ঠিকমতো সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে না পারলেও ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে চেষ্টার ত্রæটি করেননি এই বাব-মা।
জাহিদের মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে ঠিকমতো জামা-কাপড় কিনে দিতে পারিনি। তবে কখনো সে কোনো অভিমান বা অভিযোগ করেনি। এখন তার ভালো ফলাফল আমাদের চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ কলেজে ভর্তি, বই ও জামা-কাপড় কিনতে প্রায় দশ হাজার টাকা খরচ হবে। কিন্তু সংসার চালিয়ে এতো টাকা জোগাড় করবো কোথা থেকে?’
জাহিদের বাবা শাজাহান আলী বলেন, ‘প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে উঠে ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যশোর শহরে গিয়ে রিকশা চালাই। সারাদিন যা আয় হয় তা দিয়ে তিন ছেলে মেয়েসহ পাঁচ সদস্যের সংসার চলে। অনেকটা না খেয়ে, না পরে ছেলের লেখাপড়ার খরচ যুগিয়েছি। এখন ছেলের পাশের সংবাদ শুনে অনেক খুশি।’
জাহিদ হাসান বলে, ‘আমার ইচ্ছে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে দেশসেবা করা। এছাড়া আমার বাবা-মা ও পরিবারসহ এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আমার দরিদ্র বাবা-মার মুখে হাসি দেখতে চাই।’
স্কুলের প্রধান শিক্ষক আতিয়ার রহমান বলেন, ‘জাহিদ বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে বরাবরই ভালো ছিল। তার আচরণ চলাফেরা ছিল সবার থেকে ভিন্ন। আমি জাহিদকে কখনোই স্কুল ফাঁকি দিতে দেখিনি।’