রোজাদারের জন্য জান্নাতের নির্দিষ্ট দরজা

আপডেট: 02:26:18 09/06/2018



img

এম মোহাম্মদ : শনিবার ২৩ রমজান। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে ইতিমধ্যে গত হয়েছে ২২টি দিবস। সিয়াম পালনকারীর জন্য কত না খুশির বার্তা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দরজা দিয়ে বেহেশতে প্রবেশ করানো হবে। এই দরজার বিশেষ নাম রয়েছে।
সাহাল ইবন সাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “জান্নাতে আটটি দরজা, তার একটিকে 'রাইয়ান' বলা হয়, তা দিয়ে রোজাদার ছাড়া কেউ ‎প্রবেশ করবে না।'
বুখারির বর্ণিত শব্দে হাদিসটি এসেছে এভাবে : ''নিশ্চয় জান্নাতে একটি দরজা আছে, যাকে বলা হয় রাইয়ান, কিয়ামতের দিন তা দিয়ে রোজাদার প্রবেশ করবে, তারা ছাড়া কেউ সেখান দিয়ে প্রবেশ করবে না। বলা হবে, রোজাদারগণ কোথায়?' ফলে তারা দাঁড়াবে, তাদের ব্যতীত কেউ তা দিয়ে প্রবেশ করবে না, যখন তারা প্রবেশ করবে বন্ধ করে দেওয়া হবে, অতঃপর তা দিয়ে কেউ প্রবেশ করবে না।''
তিরমিজির বর্ণনায়, 'জান্নাতে একটি দরজা আছে, যাকে রাইয়ান বলা হয়, তার জন্য রোজাদারদের আহ্বান করা হবে, যে রোজাদারদের অন্তর্ভুক্ত হবে, সে তাতে প্রবেশ করবে, যে তাতে প্রবেশ করবে কখনো পিপাসার্ত হবে না।'
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহর রাস্তায় যে দুটি জিনিস খরচ করল, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে ডাকা হবে : হে আব্দুল্লাহ, এটা কল্যাণ। যে সালাত আদায়কারী তাকে সালাতের দরজা থেকে ডাকা হবে। যে মুজাহিদ তাকে ‎জিহাদের দরজা থেকে ডাকা হবে। যে রোজাদার তাকে রাইয়ান দরজা থেকে ডাকা হবে। যে দানশীল ‎তাকে সদকার দরজা থেকে ডাকা হবে।''
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ বললেন, ''হে আল্লাহ্র রাসুল, আমার মাতা-পিতা আপনার উপর উৎসর্গ। যাকে এক দরজা থেকে ডাকা হবে না, তার বিষয়টি পরিষ্কার, কিন্তু কাউকে কি সকল দরজা থেকে ডাকা হবে?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, আমি আশা করছি তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত।”
বুখারি ও মুসলিমের অন্য শব্দে এসেছে,‎ “জান্নাতের প্রহরী তাকে ডাকবে, প্রত্যেক দরজার প্রহরী বলবে, 'হে অমুক, এসো।''
ইমাম আহমাদের বর্ণনা মতে, 'প্রত্যেক আমলের লোকের জন্য জান্নাতে একটি করে দরজা আছে, তাদেরকে সে আমল দ্বারা ডাকা হবে। রোজাদারদের একটি দরজা রয়েছে, তাদেরকে সেখান থেকে ডাকা হবে, যাকে বলা হয় রাইয়ান।'

শিক্ষা ও মাসায়েল
এক. রোজার ফজিলত যে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা থেকে একটি নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
দুই. 'বাবে রাইয়ান' জান্নাতের একটি দরজার নাম। 'রাইয়ান' [আররাইয়ান] শব্দটি ‎আররাইয়ু ধাতু থেকে উদ্ভূত, যা পিপাসার বিপরীত। রোজাদার যেহেতু নিজেকে পানি থেকে বিরত রাখে, যা ‎মানুষের খুব প্রয়োজন, সেহেতু তার যথাযথ প্রতিদান হিসেবে আখিরাতে তাকে পান করানো হবে, যারপর কখনো সে তৃষ্ণার্ত হবে না।
তিন. হাদিসে উল্লিখিত ইবাদত- সালাত, জিহাদ, সিয়াম ও সদকা জান্নাতের এক একটি দরজা। প্রত্যেক দরজা তার আমলকারীর জন্য খাস থাকবে, এখানে উদ্দেশ্য যার যে আমল বেশি তার জন্য সে দরজা বরাদ্দ।
চার. জান্নাতের দরজায় ফেরেশতাদের থেকে প্রহরী নিযুক্ত রয়েছে, তারা প্রত্যেক আমলকারীকে তার আমল অনুসারে তার জন্য নির্দিষ্ট দরজা থেকে ডাকবে। এ থেকে প্রমাণ হয় যে, ফেরেশতারা নেককার আদমসন্তানদের মহব্বত করেন ও তাদের কারণে খুশি হন।
পাঁচ. আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ফজিলত যে, তাকে প্রত্যেক দরজা থেকে ডাকা হবে, কারণ তিনি প্রত্যেক আমল করতেন। আবু বকরের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আশা অবশ্যই সত্যে পরিণত হবে। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসে এসেছে, আবু বকরকে প্রত্যেক দরজা থেকে ডাকা হবে, বরং জান্নাতের প্রত্যেক গলি ও ঘর থেকে ডাকা হবে।‎
ছয়. যাদের সব দরজা থেকে ডাকা হবে, তাদের সংখ্যা খুব কম।
সাত. হাদিস থেকে বোঝা যায়, এখানে উদ্দেশ্য নফল আমল, ওয়াজিব নয়, কারণ ওয়াজিব আদায়কারীর সংখ্যা প্রচুর হবে, তবে তাদের সংখ্যা খুব কম হবে, যাদের আমলনামায় অধিকহারে সবপ্রকার আমল থাকবে এবং যাদেরকে জান্নাতের সব দরজা থেকে ডাকা হবে।
আট. সামনে মানুষের প্রশংসা করা বৈধ, যদি তার ওপর গর্ব ইত্যাদির আশঙ্কা না থাকে।
নয়. যে সব আমল করে ও নিয়মিত করে, তাকে জান্নাতের সব দরজা থেকে ডাকা হবে, এটা তার ‎প্রতি সম্মান ও ইজ্জত প্রদর্শনস্বরূপ। তবে তিনি প্রবেশ করবেন এক দরজা দিয়ে। ‎
দশ. সাধারণত প্রত্যেক প্রকার নেক আমলের তওফিক একজনের হয় না, যার এক আমলের তাওফিক হয়, তার থেকে অপর আমল ছুটে যায়, এটাই স্বাভাবিক। খুব কম লোকের তওফিক হয় প্রত্যেক প্রকার আমল করা, আর তেমন কর্মের অন্তর্ভুক্ত আবু বকর।
এগার. যার যে আমল বেশি, সে আমল দ্বারা তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন ও সে আমলের সাথে তাকে সম্পৃক্ত করা হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, 'যে সালাত আদায়কারীদের দলভুক্ত হবে।' তার উদ্দেশ্য যার যে আমল বেশি, তাকে সে আমল দ্বারা ডাকা হবে, কারণ সব মুসলিম সালাত আদায় করে।