লুৎফর মাস্টারের লাম্পট্যের কাহিনি

আপডেট: 01:54:35 12/04/2018



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের আলোচিত ধর্ষণ মামলার আসামি কথিত প্রধান শিক্ষক লুৎফরের বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসছে নানা অপকর্মের তথ্য। তার নারী কেলেঙ্কারির মধ্যে প্রায় ডজনখানেক ঘটনা উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের গোচরে।
পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর এসব অপকর্মের তথ্য বেরিয়ে আসছে। মণিরামপুরের মাহমুদকাটি-রঘুনাথপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (প্রস্তাবিত) প্রধান শিক্ষক এই লুৎফর রহমান।
স্ত্রী-সন্তান থাকলেও লুৎফর রহমান পরনারীর প্রতি আসক্ত যুবক বয়স থেকে। বর্তমানে তার বয়স ষাটের কাছাকাছি।
তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ বছর আগে লুৎফর রহমান উপজেলার রোহিতা হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। ওই সময় ক্লাস চলাকালে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সামনে তিনি ছাত্রীদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন। এককান দুইকান হয়ে বিষয়টি গোচরে আসে পরিচালনা পর্ষদের। আবার অনেক ছাত্রী সরাসরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগও করতো। অনেক চেষ্টা করেও তাকে থামানো না যাওয়ায় অবশেষে কলঙ্কের বোঝা নিয়ে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল লুৎফরকে।
এলাকাবাসী বলছেন, ইতিপূর্বে মণিরামাপুর সদর ইউনিয়নের এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় এলাকাবাসীর হাতে আটক হন তিনি। তখন স্থানীয়রা তার মাথা ন্যাড়া করে দেন।
উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের খোঁজালিপুর গ্রামের এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গোয়ালদহ বাজারের একটি ঘরে আটকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে লুৎফরের বিরুদ্ধে। তখন মেয়েটির স্বজনরা তাকে ধরে এনে বেঁধে রেখে মারপিট করেন। পরে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্ত হন তিনি।
এখানেই শেষ নয়। গত বছর হেলাঞ্চী বাজারের পাশে একটি চাতালে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হন লম্পট লুৎফর রহমান। পরে স্থানীয় কয়েক জনপ্রতিনিধি মুচলেকা দিয়ে তাকে মুক্ত করেন।
উপজেলার দোঁদাড়িয়া এলাকায় এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়েছিলেন। এছাড়া কোমলপুর এলাকার এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মারপিটের শিকার হন তিনি।
এতকিছুর পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন এই লুৎফর মাস্টার। এক ভাই যুবলীগ নেতা হওয়ায় তিনি বারবার রেহাই পেয়েছেন। একটা মামলা পর্যন্ত হয়নি তার বিরুদ্ধে।
এতোসব ঘটনার পরও তিনি উপজেলার মাহমুদকাটি গ্রামে একটি প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামে অনেকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না লুৎফর মাস্টারের। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। ওয়াজ মাহফিল থেকে শিশুটিকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে এনে তিনি ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ। তবে মামলা হলেও এখনো গ্রেফতার হননি তিনি।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকা ছাড়েন লুৎফর মাস্টার। ‘তবে পালিয়ে বাঁচতে পারবে না তিনি। তাকে ধরা দিতেই হবে’- এমন ভাষ্য পুলিশের।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মণিরামপুর থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) এনামুল হক বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে লুৎফর পলাতক। তাকে ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। অচিরেই সে ধরা পড়বে।’
লুৎফর রহমান উপজেলার খড়িঞ্চি গ্রামের মৃত ফকির কবিরাজের ছেলে।

আরও পড়ুন