লোহাগড়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ে এতো অভিযোগ!

আপডেট: 09:32:14 08/01/2018



img

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি : ‘লোহাগড়ার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে, অথচ পুলিশ ধরছে না। খোদ পুলিশের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মাদক ব্যবসা চলছে। অথচ পুলিশ নিরীহ মানুষকে ধরে এনে মাদক মামলায় দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। আবার পুলিশ মাদক সেবন করে না এমন মানুষকে মাদক দিয়ে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে।’
এসব অভিযোগ করেছেন উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা। আজ সোমবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তারা এসব অভিযোগ করেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইতনা ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান বলেন, ‘আতশপাড়া গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী শোয়াইবকে ইতনা থেকে ধরে এনে পুলিশ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে। মাদকের স্পট ও মাদক ব্যবসায়ীদের নাম বহুবার পুলিশকে দিয়েছি। কিন্তু লাভ হয়নি। পুলিশ তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে মাদক নির্মূল হবে কীভাবে?
মল্লিকপুর ইউপি চেয়াম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, ‘দোয়ামল্লিকপুর গ্রামের অশোক বিশ্বাস (৫৫) নিরীহ ব্যক্তি। তিনি মাদকের সঙ্গে জড়িত নন। অথচ গত শনিবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় লোহাগড়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমান তাকে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ধরে আনেন। আমি তাকে ছাড়ানোর জন্য থানায় গেলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। না দিলে ২০ পিচ ইয়াবা দিয়ে মামলা দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছাড়িয়ে আনা হয়।’
শালনগর ইউপি চেয়ারম্যান খান তসরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘এ ইউনিয়নে মণ্ডলবাগ বাজার, মাকড়াইল, আপিলগেট ও রামকান্তপুর গ্রামে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। সেখানে পুলিশ যায়, তাদের সঙ্গে কথা বলে চলে আসে। এ ইউনিয়নে ছয়জন বড় মাদক ব্যবসায়ী আছে। তারা পাইকারি বিক্রেতা।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তাদের নাম-ঠিকানা বহুবার পুলিশকে দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ তাদের আটক করে না।’
জয়পুর ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বলেন, ‘জয়পুর ইউনিয়নে মাদকের ডিলার ও সাবডিলার আছে। তাাদের ধরা হয় না। ধরা হয়, যারা এক পুরিয়া গাঁজা খায় তাদের। জানি না, পুলিশ মাসোহারা পায় কি না।’
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফকির মফিজুল হক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা সভায় সবাই মুখ খুলেছে, ঝড় তুলেছে। তাতেই বোঝা যায় কী ভয়াবহ অবস্থা।’
তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা মোড়ে মোড়ে টাঙিয়ে দেওয়ার দাবি করেন।
তবে লোহাগড়া থানার এসআই কে এম জাফর আলী পুলিশের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগের প্রতিবাদ করেন। বলেন, ‘ঢালাওভাবে অভিযোগ করা হলো। এ উপজেলায় বড় ডিলার নেই। ছোট ছোট ডিলার আছে। তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। আমরা মাদক নির্মূলের চেষ্টা করছি। কিন্তু কাছে মাদক না পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।’
উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ইউএনও মনিরা পারভীন বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সভায় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শেখ নজরুল ইসলাম, নলদী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, লোহাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল শিকদার, লাহুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন