লোহাগড়ায় পূজামণ্ডপ ঘিরে মৃৎশিল্পীদের তৎপরতা

আপডেট: 06:49:15 24/09/2018



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল): অপেক্ষার পালা শেষ হতে আর বেশি সময় নেই। লোহাগড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোতে শুরু হয়েছে প্রতিমা গড়ার কাজ। সেই সঙ্গে চলছে মণ্ডপের অবকাঠামো তৈরি।
পূজা উপলক্ষে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। তাদের চোখে ঘুম নেই। খড়, মাটি, বাঁশ, কাঠ ও সুতলি দিয়ে প্রতিমা গড়ায় ব্যস্ত। কাঁচা প্রতিমা গড়া হলে তা শুকানোর জন্য কিছুদিন সময় নিতে হয়। এরপর প্রতিমা রঙ করে কাপড় পরানো এবং সাজসজ্জার কাজ শুরু হবে। মৃৎশিল্পীরা মনের মাধুরী দিয়ে প্রতিমা তৈরি করে চলেছেন।
কথা হয় লক্ষ্মীপাশা শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী কালিমাতা মন্দিরের দুর্গামণ্ডপে কর্মরত মৃৎশিল্পী কুন্দশী গ্রামের অরবিন্দু পালের সঙ্গে। তিনি এ বছর দশটি মণ্ডপে দুর্গা প্রতিমা নির্মাণ করছেন।
তিনি বলেন, রঙসহ অন্যান্য সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরিতে খরচ বেড়ে গেছে।
আগামী ৪ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৪ অক্টোবর ষষ্ঠি পূজার মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব শুরু হয়ে ১৮ অক্টোবর বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে।
লোহাগড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য প্রবীরকুমার কুণ্ডু মদন জানান, লোহাগড়া পৌরসভাসহ ১২টি ইউনিয়নে এ বছর ১৬১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে লোহাগড়া পৌর এলাকার ৩৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হতে যাচ্ছে। গতবারের চেয়ে এ বছর ছয়টি মণ্ডপ বেশি।
সরেজমিনে লক্ষ্মীপাশা, কচুবাড়িয়া, রামপুর, জয়পুর, কুন্দশী, চোরখালি, ছাতড়া ও লোহাগড়া এলাকার দশটি মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় পূজার আয়োজন চলছে। মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। মণ্ডপ কমিটির সদস্যদেরও ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। মাইক ও ডেকোরেটরের দোকানগুলোতে পূজার বায়না নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাসহ মণ্ডপ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। দুর্গাপূজাকে নির্বিঘ্ন করতে থানা পুলিশের আয়োজনে গত শুক্রবার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন