লোহাগড়া উপজেলা নির্বাচন এখনো নিরুত্তাপ

আপডেট: 02:53:01 10/03/2019



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করে লোহাগড়ায় ভোটের মাঠে নেমে পড়েছেন। প্রার্থীরা এখন গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটারদের সঙ্গে কুশল, শুভেচ্ছা ও সালামবিনিময়ের পাশাপাশি ভোট প্রার্থনা করছেন তারা। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোট অংশ নিচ্ছে না। তাই নির্বাচনী মাঠ তেমন জমে ওঠেনি। তাই, অনেকটা নিরুত্তাপ পরিবেশেই চলছে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে চেয়ারম্যান পদে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচন জমজমাট হতে পারে বলে ভোটারদের ধারণা।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রাশিদুল বাশার ডলার (নৌকা) উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু (আনারস), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু (মোটরসাইকেল) এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নলদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মোল্যা (দোয়াত-কলম) প্রার্থী হিসেবে গত ২৬ ফেব্রæয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিল করে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর পরই প্রার্থীদের ছবিসম্বলিত পোস্টারে ছেঁয়ে গেছে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ।
খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তিনি ১৯৭০ সালে লাহুড়িয়া হাইস্কুল ছাত্রলীগের সদস্য ও পরে সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৩ সাল থেকে ১৫ বছর লাহুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১২ বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং প্রায় পাঁচ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে পরিচ্ছন্ন ইমেজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। আসন্ন নির্বাচনে তিনি ভোটের মাঠে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আবিভর্‚ত হয়েছেন। শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু মনে করছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তিনি জয়ী হবেন।
অপরদিকে সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন। সৈয়দ লিটু নোয়াগ্রাম প্রাইমারি স্কুলে পড়ালেখা শেষ করে স্থানীয় ছত্রহাজারী হাইস্কুল থেকে ১৯৮৩ সালে এসএসসি পাস করে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তি হন। তিনি খুলনার দৌলতপুর কলেজ থেকে এইচএসসি ও বিএ পাশ করেন। ১৯৯১ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় মাস্টার্স করেন। তিনি ১৯৯১ সালে নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দুইবার নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৪ সাল থেকে দশ বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২০১৪ সালে সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আসন্ন নির্বাচনে ‘ক্যারিশম্যাটিক’ প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের নজর কেড়েছেন তিনি। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী এই প্রার্থী।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও পাঁচুড়িয়া গ্রামের সন্তান রাশিদুল বাশার ডলার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভ‚গোলে এমএ পাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে তিনি এসএম হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটি এবং নড়াইল জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এলাকার রাজনীতিতে রাশিদুল বাশার ডলারের তেমন অবস্থান নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, বিলবোর্ড ও ফেসটুনে তার সরব উপস্থিতি। অধিকাংশ ভোটারের কাছে তিনি নতুন মুখ। তবু তিনি ভোটের মাঠে বেশ আটঘাট বেঁধে নেমেছেন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী নৌকার এই প্রার্থী।
লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মোল্যা ওরফে জামান আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মী তার সঙ্গে রয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি নলদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৮ সাল থেকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্বে পালন রয়েছেন। এ কারণে আসাদুজ্জামান দীর্ঘ কারাভোগ করেছেন। নলদী ইউপির পর পর দুইবার চেয়ারম্যান হিসেবে আসাদুজ্জামান নির্বাচিত হয়ে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। জেলা চেয়ারম্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি। দারিদ্র্য বিমোচন, সমাজসেবা ও শান্তিতে স্বর্ণসহ অসংখ্য পদকে ভূষিত হয়েছেন আসাদুজ্জামান। উপজেলা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে তিনি জয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তৃতীয় ধাপে আগামী ২৪ মার্চ লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ বার উপজেলায় প্রায় এক লাখ ৮৯ হাজার ভোটার রয়েছেন।

আরও পড়ুন