লোহাগড়া ক্রীড়া সংস্থার কমিটি নেই, স্থবির ক্রীড়াঙ্গন

আপডেট: 05:15:27 28/12/2017



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : লোহাগড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থায় দীর্ঘ নয় বছর কমিটি নেই। এ কারণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না, ব্যাহত হচ্ছে খেলাধুলা।
সংগঠকরা জানান, ২০০৮ সালে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ত্রিবার্ষিক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। এর পর কর্তৃপক্ষ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচন ঘোষণা করেন। নির্বাচনের দিন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে ভোট স্থগিত করা হয়। এ ঘটনার পর উপজেলার ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থায় দশটি পদ রয়েছে। পদাধিকার বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সভাপতি। এছাড়া দুইজন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, দুইজন সহ-সাধারণ সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ ও ছয়টি নির্বাহী সদস্য পদ রয়েছে।
ক্রীড়া সংগঠক মাহাবুব আহম্মদ জানান, কমিটি থাকাকালে এখানে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রামভিত্তিক ফুটবল, ভলিবল, ক্রিকেট, হাডুডুসহ নানা খেলাধুলার আয়োজন করা হতো। শুধু তা-ই না, ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হতো।  ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে ইউএনও কাপ, উপজেলা কাপসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হতো। কিন্তু কমিটি না থাকায় লোহাগড়ার ক্রীড়াঙ্গন প্রাণহীন ও অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।
অ্যাথলেটিকস কোচ ও ক্রীড়া সংগঠক দীলিপ চক্রবর্তী বলেন, ‘অ্যাথলেটিকসে স্কুল পর্যায়ে টানা দশবার জাতীয় পর্যায়ে দেশসেরা হয়েছে লোহাগড়া উপজেলা। কিন্তু এখন হ্যান্ডবল, ভলিবল, হকি, বাস্কেটবল, ফুটবল, ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলাধুলায় এ উপজেলার খেলোয়াড়রা জেলা বা বিভাগ পর্যায়ে যেতে পারছে না। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি না থাকায় এসব খেলার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না।’
তিনি দ্রুত উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গঠনের দাবি জানান।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও লোহাগড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামান বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরির জন্য উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার বিকল্প নেই। কিন্তু দীর্ঘদিন ক্রীড়া সংস্থার কমিটি না থাকায় লোহাগড়ার ক্রীড়াঙ্গনজুড়ে চরম স্থবিরতা বিরাজ করছে। সে কারণে কমিটি গঠন জরুরি।’
নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উপ-মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু অভিযোগ করে বলেন, ‘জেলা প্রশাসক ও ইউএনওর সদিচ্ছার অভাবে কমিটি হচ্ছে না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা পারভীন জানান, কমিটি না থাকায় ক্রীড়ার সরকারি বরাদ্দ উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া কমিটি গঠন করার ক্ষেত্রে জটিলতাও রয়েছে। তবে শিগগির উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন