লোহাগড়া হানাদারমুক্ত হয় ৮ ডিসেম্বর

আপডেট: 01:40:13 07/12/2017



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : ৮ ডিসেম্বর লোহাগড়া হানাদার মুক্ত দিবস।
মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে লোহাগড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে থানা আক্রমণ করে লোহাগড়াকে পাক হানাদারমুক্ত করেন। সর্বত্র পত্ পত্ করে উড়তে থাকে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। স্বর্তঃস্ফূর্ত বিজয় উল্লাসে রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার মুক্তিপাগল জনতা।
১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসের শুরুতেই লোহাগড়া থানার অধিকাংশ এলাকা পাক হানাদারমুক্ত হয়। এ সময় স্থানীয় রাজাকাররা থানায় আশ্রয় নেয়। পুলিশ এবং রাজাকাররা মিলে থানা অভ্যন্তরে অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিশাল মজুদ গড়ে তোলে। মধ্য নভেম্বরে মুক্তিযোদ্ধারা লোহাগড়া থানা আক্রমণের চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এ জন্য মুক্তিযোদ্ধা শরীফ খসরুজ্জামানের উপস্থিতিতে ২ ডিসেম্বর নোয়াগ্রাম ইউপির আড়পাড়া গ্রামের বাবু মীরের বাড়িতে এক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গ্রুপ কমান্ডার ইমান আলী, ওয়ালিয়ুর রহমান, নুর মিয়াসহ ৩০-৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে, মাকড়াইলের কবির হোসেনের নেতৃত্বে কমান্ডার শেখ ইউনুস আলী, লুৎফর বিশ্বাস, রওশন গাজী, আবুল হোসেন খোকনসহ ৪০-৪৫ জনের একদল মুক্তিযোদ্ধা গোপন বৈঠকের মাধ্যমে লোহাগড়া থানা আক্রমণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
৮ ডিসেম্বর ফজরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে শরীফ খসরুজ্জামান, কবির হোসেন, শেখ ইউনুস আলী, লুৎফর বিশ্বাস, আবুল হোসেন খোকন, মাসুম জমাদ্দারের নেতৃত্বে দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা চার ঘণ্টাব্যাপী গেলিরা আক্রমণের মাধ্যমে পাক হানাদার বাহিনী পরাস্ত হয়ে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে থানার সামনে উপজেলার কোলা গ্রামের হাবিবুর রহমান ও যশোর সদর উপজেলার জঙ্গলবাঁধাল গ্রামের মোস্তফা কামাল শহীদ হন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ২২ জন পুলিশসহ স্থানীয় রাজাকাররা আটক হয়। শহীদ হাবিবুর রহমানকে লোহাগড়া থানায় এবং শহীদ মোস্তফা কামালকে ইতনা স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে দাফন করা হয়।
লোহাগড়া মুক্ত দিবস পালন উপলক্ষে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শুক্রবার দিনব্যাপি নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, শহীদ হাবিবুর রহমানের কবর জিয়ারত, আলোচনা সভা ও মিলাদ মহফিল।

আরও পড়ুন