শার্শার বিআরডিবি কর্মকর্তা আছিয়াকে বদলির দাবি

আপডেট: 06:58:12 12/02/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের শার্শা উপজেলা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) কর্মকর্তা (আরডিও) আছিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে সমবায়ীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অসদাচরণ, হয়রানি এবং যাকে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আরডিও আছিয়া খাতুনের ব্যাপারে গত ৭ ফেব্রুয়ারি শার্শা উপজেলা বিআরডিবির সমবায় সমিতির ম্যানেজার ও সাধারণ সম্পাদকরা বার্ষিক সাধারণ সভায় মিলিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বদলির দাবি জানান। এই সভায় জেলা কর্মকর্তা তপনকুমার মণ্ডলও উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানানো হয়, ওই কর্মকর্তার অসদাচরণ ও দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় একই অফিসের কর্মচারী জি এম মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তার হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল মাহবুবুর রহমান তার পাওনা বেতন-ভাতা চাইতে গেলে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। সৃষ্ট ঘটনায় মাহবুবুর রহমানকে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন আছিয়া। দাবি করা হয়, প্রকৃতপক্ষে ওই দিন আছিয়া খাতুন নিজ টেবিলের কোনায় আঘাত পেয়ে সামান্য আহত হন।
এদিকে, আছিয়া খাতুনকে ‘অযোগ্য ও অদক্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করে জি এম মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে যশোর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি পিটিশন মামলা করেন। অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য শার্শা থানাকে নির্দেশ দেন আদালত। থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক বাবুল আক্তার তদন্ত করে ইতিমধ্যে আদালতে রিপোর্ট দিয়েছেন।
এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে সমবায়ীরা আছিয়াকে বদলির জন্য বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন।
সমবায়ীসহ অন্যরা বলছেন, আছিয়া কর্মস্থলে থাকেন না। সরকারি নির্দেশনা ও নীতিমালা তোয়াক্কা না করে যশোর শহর থেকে ইচ্ছামতো অফিসে আসেন। কখনো কখনো যশোর অফিসে কাজের অজুহাতে সপ্তাহে ২-৩ দিন অফিস করেন না। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সমবায়ীদের।
শার্শা বিআরডিবির চেয়ারম্যান আব্দুর রব জানান, আছিয়া খাতুন (আরডিও) শার্শা অফিসে যোগদান করার পর থেকে অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, তুচ্ছতাচ্ছিল্য, গালিগালাজ ও দুর্ব্যবহার করে আসছেন। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তাকে বদলি করার আবেদন জানিয়ে চলমান ঘটনা ও মামলার বিষয় সম্পর্কে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সভাপতি, মহাপরিচালক, পরিচালক প্রশাসন ও জেলা কর্মকর্তাকে পত্র দেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তা মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য অধীনস্ত কর্মচারীদের মিথ্যা মামলার সাক্ষী বানিয়ে তার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি ও হুমকি অব্যাহত রেখেছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘ওই কর্মকর্তাকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন বাংলাদেশ পল্লী¬ উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে একটি পত্র দিয়েছেন। তারপরও অদৃশ্য কারণে তাকে বদলি করা হচ্ছে না কেন জানি না।’
ঋণ নিতে আসা গ্রাহক লতিফা খাতুন বলেন, ‘সকাল দশটায় আরডিও ম্যাডাম আমাদের আসতে বলেছে। কিন্তু এখন পাঁচটা বাজে, এখনো ঋণ দেয়নি।’
এক সমবায়ী ঋণ গ্রহিতা অভিযোগ করে বলেন, ‘আরডিও ম্যাডামের ব্যবহার খুবই খারাপ। কিছু হলেই ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমরাও তার বদলির দাবি জানাচ্ছি।’
এ ব্যাপারে জেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা তপনকুমার মণ্ডল বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান। বদলির বিষয়ে আমি পরিচালক প্রশাসনকে পত্র দিয়েছি। সাধারণ সভায় উপস্থিত থেকে সব জানতে পেরেছি।’
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মওদুদ রশিদ সরদার বলেন, ‘শার্শা বিআরডিবি অফিসের আরডিও আছিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি আমি শুনেছি। দ্রুতই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন