শার্শায় খ্রিস্টানবাড়িতে হামলা, অভিযুক্ত শাসকদলীয়রা

আপডেট: 04:30:43 09/09/2018



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের গিলাপোল গ্রামে শনিবার রাতে জসিব জুড়ন দাস (৮০) নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারপিট, ভাঙচুর, নারীদের শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুটপাটের অভিযোগ করা হচ্ছে।
খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী পরিবারটির ওপর হামলার জন্য দায়ী করা হচ্ছে উপজেলা যুবলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম মিলন ও তার সমর্থকদের। হামলার ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন। পরে মিলনকে প্রধান আসামি করে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের ১৭ নেতাকর্মীর নামে শার্শা থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ আটজনকে গ্রেফতার করেছে। এঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম মিলন দীর্ঘদিন ধরে জসিব জুড়ন দাসের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। শনিবার রাতে বাজারে এ নিয়ে জসিব দাসের ছেলে সালমন দাসের (৪৫) সঙ্গে মিলনের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সালমন দাস তার হাতে থাকা টর্চলাইট দিয়ে ইউপি সদস্য মিলনের মাথায় আঘাত করেন। এর পর মিলনের সমর্থকরা হামলা চালান জসিব জুড়ন দাসের বাড়িতে। এ সময় বাড়ির মধ্যে থাকা আসবাসপত্র ভাঙচুরসহ লুটপাট ও বাড়িতে থাকা নারী সদস্যদের পরনের পোশাক ছিড়ে ফেলেন তারা। এ সময় তাদের হামলায় জসিব জুড়ন দাস ও তার ছেলে সালমন দাস আহত হন।
খবর পেয়ে রাতে শার্শা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। রোববার সকালে এ ঘটনায় শার্শা থানায় সালমন দাস বাদী হয়ে ১৭ জনের নামে একটি মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, উলাশী ইউনিয়নের শরিফুল ইসলাম (৩২), আমিনুর রহমান (২৮), শ্যামলকুমার দাস (৩৫), আশিক হোসেন (২৯), আসাদুল (২৮), আক্তারুল ইসলাম (২১), আশরাফুল ইসলাম (২৩) এবং কামরুজ্জামান খোকন (৩০)। এরা সবাই মিলনের সমর্থক।
তবে এ মামলার প্রধান আসামি তারিকুল ইসলাম মিলন রোববার সকালে শার্শা থানার সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের ঘটনার বিবরণ দিলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি বলে অভিযোগ বাদীপক্ষের।
ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম মিলন বলেন, সম্প্রতি জমিজমা সংক্রান্ত একটি শালিশি বৈঠকে উলাশী ইউনিয়নে সঠিক বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যান আয়নাল হকের সঙ্গে তার বিরোধ হয়। সেই সূত্র ধরে চেয়ারম্যান আয়নালের পোষ্যবাহিনীর লোকজন তার নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়ায়। এমনকি তাকে ‘আয়নাল চেয়ারম্যান বেঁধে রেখে মারধর করেছে- এরকম ভিডিও চিত্র আছে গিলাপোলের সালমন দাসের কাছে’ বলে অপবাদ ছড়ায়।
‘শনিবার রাতে উলাশী বাজারে সালমানের কাছে সেই ভিডিও চিত্র চাইলে সে আমাকে চর্টলাইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। আমার মাথায় নাভারন বুরুজবাগান হাসপাতাল থেকে সাতটি সেলাই দেওয়া হয়। আমার লোকজন এই ঘটনার প্রতিবাদ করে। এরপর আমাকে ও আমার লোকজনের নামে মিথ্যা অপবাদ দেয় ওই সংখ্যালঘু পবিারের লোকজন।’
তিনি বা তার কোনো সমর্থক ভাঙচুর-লুটপাটের মতো ঘটনা ঘটাননি বলে দাবি করেন মিলন।
উলাশী গ্রামের বিজয়কুমার ও গিলাপোল গ্রামের মন্টু সরকার রাজু আহম্মেদ বলেন, মিলন মেম্বারের নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে এলাকায় তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন এলাকার চেয়ারম্যানের কিছু লোকজন। মিলন মেম্বারকে মারধর করার ভিডিও দেখাতে বলায় চেয়ারম্যানের পোষ্য বাহিনীর লোকজন তার ওপর চড়াও হয়। এবং মিলনকে সালমন নামে একজন টর্চলাইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করে।
এ ব্যাপারে উলাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আয়নাল হক বলেন, ‘মিলন মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। সে একটি পার্ক নির্মাণ করে সেখানে দেহ ব্যবসা চালায়। ইউনিয়নের সকল কাজে নাক গলিয়ে থাকে। এ কারণে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। চাঁদাবাজির নানা অভিযোগ রয়েছে তার বাহিনীর নামে। চাঁদার দাবিতে রোববার রাতে সংখ্যালঘু খ্রিস্টান পরিবার জসিব জুড়ন দাসের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালায় তারা।’
শার্শা থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) তাসলিম আহমেদ তুষার জানান, ঘটনা শোনার সাথে সাথে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। চাঁদার দাবিতে এই হামলা করা হয়েছে বলে তিনি বলেন।
জানান, রোববার সকালে থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আট আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন