শালিসে জুতাপেটা, অপমানে বৃদ্ধের আত্মহত্যা!

আপডেট: 02:55:20 12/04/2018



img

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : শৈলকুপায় ইয়ারত আলী মণ্ডল (৬০) নামের এক বৃদ্ধ গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শালিসে জুতাপেটা করার অপমান সইতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ত্রিবেণী ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামে।
স্থানীয়রা বলছেন, বসন্তপুর গ্রামের মৃত মাহমুদ আলী মণ্ডলের ছেলে ইয়ারত আলী মণ্ডলের জমিজমা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে তার বোনের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। সমস্যা সমাধানে বসন্তপুর বাজারে মঙ্গলবার রাতে গ্রাম্য শালিস ডাকেন ত্রিবেণী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মোল্লা। রাত সাড়ে আটটায় শালিস কার্যক্রম শুরু হলে ইয়ারত আলী মণ্ডল সেখানে উপস্থিত হন।
এসময় শালিসদারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য লিয়াকত ও তার ছেলে বাবু, ওই গ্রামের হোসেন মোল্লার ছেলে সাবু, স্থানীয় মাতব্বর আলাউদ্দিন, সলিম মৃধা প্রমুখ।
শালিসের এক পর্যায়ে একতরফা রায় ঘোষণা করায় ইয়ারত আলী তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। রায় না মানায় ইয়ারত আলী মণ্ডলকে জুতাপেটা করার নির্দেশ দেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মোল্লা।
এসময় শালিসে উপস্থিত ব্যক্তিরা বৃদ্ধকে জুতাপেটাসহ মারধর করে। এই অপমান সইতে না পেরে ওই রাতেই ইয়ারত আলী বাড়ির পাশের বাগানে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
খবর পেয়ে শৈলকুপা থানা পুলিশ বাগান থেকে বৃদ্ধর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার ঝিনাইদহ মর্গে পাঠায়।
শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, ইয়ারতের মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
ইয়ারতের মেয়ে আন্না খাতুন অভিযোগ করেন, তার বাবাকে শালিসের নামে জুতাপেটা করে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন