শিক্ষক পদায়নে ঘুষবাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট: 01:29:13 25/09/2018



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদায়নে কয়েক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে। নিজের পছন্দমতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পদায়ন দিতে আদায় করা হয়েছে দশ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমিনের নামে এ টাকা গ্রহণ করেছেন অফিসের প্রধান সহকারী শেখ গোলাম মোস্তফা ও ক্যাশিয়ার মো. জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিক। তবে তাদের দাবি, এ বছর পদায়নের বিষয়ে তাদের কোনো হাত নেই। যা করার সরাসরি ডিপিইও করেছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নম্বর প্রাশিআ/৭(নিয়োগ)সশিনি(রাজস্ব)২০১৪/২৪৯, তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪ খ্রি. অনুসারে জেলায় ১২১ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত করা হয়। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২১ জন, কালিগঞ্জে নয়জন, কলারোয়ায় সাতজন, আশাশুনিতে ২৫ জন, দেবহাটায় দুইজন ও শ্যামনগর ৩৯ জন রয়েছেন। চূড়ান্ত তালিকায় যাদের নাম আছে তাদের আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে যোগদান করার জন্য গত ১৬ সেপ্টেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমিন নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশের কপি ১৬ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর করলেও তা স্ব-স্ব উপজেলায় পাঠানো হয় ২৩ সেপ্টেম্বর।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব শিক্ষককে জেলার বাইরে বদলি, দুর্গম এলাকায় পদায়নাসহ বিভিন্ন ভীতি দেখিয়ে নেওয়া হয়েছে টাকা। যে সব বিদ্যালয়ে শিক্ষক শূন্য রয়েছে সে সব বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক না দিয়ে টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। ‘টাকা ছাড়া কিন্তু ডিপিইও স্যার সই করবে না’- এমন কথা বলে শিক্ষা অফিসের প্রধান সহকারী শেখ গোলাম মোস্তফা ও ক্যাশিয়ার মো. জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিক টাকাগুলো আদায় করেছেন।
তবে এই দুই কর্মচারীর দাবি করেছেন, এ বছর পদায়ন বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।
তারা বলেন, ‘যারা পদায়নের বিষয়ে আলোচনা করতে এসেছে তাদের সরাসরি ডিপিইও স্যারের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। এবার বিষয়টি তিনি নিজেই দেখেছেন।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক সংকট প্রকট। সেই সব বিদ্যালয়ের কথা চিন্তা না করে টাকা নিয়ে বদলি দেওয়া হয়েছে। এমন অনেক বিদ্যালয় আছে যেখানে শিক্ষক সংকট নেই। সেখানেও দেওয়া হয়েছে শিক্ষক। সাতক্ষীরা পৌর এলাকার বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে শিক্ষক সংকট প্রকট। সেখানেও দেওয়া হয়নি শিক্ষক।
শিক্ষক সংকট থাকা বিদ্যালয়ে শিক্ষক না দেওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিজেও। এ বিষয়ে ভাষ্য, এটি তিনিও ফিল করেছেন। তবে এটি নিয়ে বিচলিত না হওয়ার পরামর্শ তার।
তিনি বলেন, ‘জেলার বাইরে প্রায় ১২১ জন পুল শিক্ষক আছে। তারা খুব দ্রুত সাতক্ষীরায় যোগদান করবে। তখন যে সব বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে সে সব বিদ্যালয়ে শিক্ষক দেওয়া হবে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্রধান সহকারী শেখ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমি কোনো টাকা গ্রহণ করিনি। তবে জাহাঙ্গীর সাহেবের কথা আমার জানা নেই।’
বিষয়টি নিয়ে ক্যাশিয়ার মো. জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বলেন, ‘এ বছর এমন কোনো সুযোগ পাইনি। আমার কাছে যারা এসেছিল তাদের ডিপিইও স্যারের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমিন বলেন, পদায়নের কথা বলে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিয়ম মেনেই পদায়ন করা হয়েছে।’
১৬ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরের এক সপ্তাহ বিলম্ব করে ২৩ সেপ্টেম্বর উপজেলায় চিঠি পাঠানো সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেন, স্বাক্ষরের পরেও কিছু ভুল ছিল। সেগুলো ঠিক করতে একটু সময় লেগেছে। তাই দেরিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আর কিছু না।’

আরও পড়ুন