শিক্ষক প্রতিভার বিরল ‘প্রতিভা’

আপডেট: 07:25:20 26/12/2017



img

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : পাইকগাছায় প্রতিভা মৃধা নামে এক সহকারী শিক্ষকের প্রতিভায় চমকিত সংশ্লিষ্টরা। ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা উত্তোলন করলেও কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত হননি বললেই চলে। সবশেষ ২১ মাস বিনাঅনুমতিতে তিনি অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছেন। এমনকি প্রতিষ্ঠানপ্রধান কারণ দর্শানোর নোটিস পৌঁছানোর জন্য তার ঠিকানাও যোগাড় করতে পারেননি।
পাইকগাছার মানিকতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রতিভা মৃধা। কাজে যোগদানের পর ২-১ বছর নিয়মিত থাকলেও পরবর্তীতে অনিয়মিত হয়ে পড়েন শিক্ষক প্রতিভা। কর্তৃপক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করে ও বিভিন্ন ছুটি দেখিয়ে তিনি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। পরে ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারিখ থেকে তার বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে শিক্ষকের অনুপস্থিতির কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক খালেদা খাতুন ওই শিক্ষকের অনুপস্থিতি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
প্রতিবেদন সূত্রমতে, প্রতিভা মৃধা সহকারী শিক্ষক হিসেবে ২০১০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ২৬ নম্বর মানিকতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। প্রথম দিকে কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও ২০১৪ সাল থেকে অনিয়মিত হয়ে পড়েন তিনি। পরে তিনি ২০১৪ সালের ১৮ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১৪ দিন চিকিৎসা ছুটি নেন। ছুটি শেষে ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত তিনি বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকেন কর্মক্ষেত্রে। এরপর তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসার নরেন্দ্রনাথ মৈত্রের কাছ থেকে অনুপস্থিতির সময়কাল চিকিৎসা ছুটি হিসেবে পাশ করিয়ে ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই প্রতিভা কর্মস্থলে যোগ দেন। এরপর মাত্র দুই দিন কর্মরত থেকে ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাতৃকালীন ছুটি নেন। ছুটি শেষে কাজে যোগ দিয়ে একদিন মৌখিক ছুটি নেন। কিন্তু ক’দিন পর ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি হারিয়ে যান। গত  ২১ মাস কর্মস্থলে আসেননি প্রতিভা মৃধা।
উল্লেখ্য, চিকিৎসা ও মাতৃত্বকালীন ছুটির কোনো কাগজপত্র তিনি বিদ্যালয়ে জমা দেননি। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক তাকে কারণ দর্শাতে লিখিত নির্দেশ প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু তিনি নির্দেশ পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। প্রধান শিক্ষক প্রতিভাকে খুঁজেই পাননি।
বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকে স ম বাবর আলী সম্প্রতি প্রধান শিক্ষককে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন। গত রোববার উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক খালেদা খাতুন নিশ্চিত করেছেন।