শিক্ষক ১৪ জন অথচ ২০ পরীক্ষার্থীই ফেল!

আপডেট: 02:38:28 09/05/2018



img
img

মাগুরা প্রতিনিধি : এবার দাখিল পরীক্ষায় মাগুরার একটি মাদরাসা থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাস করেনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিভাবক ও এলাকাবাসী মাদরাসার ‘অযোগ্য শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি’ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ঘোষপুর রিজিয়া রুবিয়া দাখিল মাদরাসার সামনে এ মানববন্ধন হয়।
মানববন্ধন চলাকালে আজাদুর রহমান, কাজী আলিয়ার রহমান, আমিনুর রহমানসহ ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষকরা নিয়মিত মাদরাসাটিতে আসেন না। এলেও ক্লাস না নিয়ে হাজিরা খাতায় সই করে যার যার ব্যক্তিগত কাজে চলে যান। পারিবারিক লোকজন ও আত্মীয়-স্বজন নিয়ে গঠিত ম্যানেজিং কমিটি লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। সভাপতি রুবিয়া খাতুন জাল নিবন্ধন সনদধারী তার ছেলে আব্দুল ওহাব মিলন ও জামাই মেয়েসহ ছয় আত্মীয়কে এ মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগের ফলে এ বছরের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থী ফেল করেছে।
তারা বলেন, এমপিওভুক্ত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ১৪ জন শিক্ষক তিনজন কর্মচারী সরকারের হাজার হাজার টাকা বেতন-ভাতা ভোগ করছেন। কিন্তু তারা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া না শিখিয়ে যে যার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। আবার অনেকে মাদরাসার অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অনেকে মাদরাসায় না এসে কোচিং বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন।
অভিভাবকরা আরো অভিযোগ করেন, মাদরাসাটিতে বহু বছর ধরে অধ্যক্ষের পদ শূন্য রয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি তার আত্মীয় তাহমিনা পারভিনকে সুপারিনটেন্ডেন্টের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। নিয়মবহির্ভূতভাবে প্যাটার্ন ভেঙে দাখিল মাদরাসায় চতুর্থ শিক্ষক হিসেবে তার ছেলেকে সহকারী মৌলভি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ‘জাল নিবন্ধন সনদ দিয়ে’ চাকরিরত সভাপতিপুত্র আবদুল ওহাব মিলনের মিলনের ইচ্ছা ও খেয়াল-খুশিমতো মাদরাসাটি পরিচালিত হচ্ছে।
আজ দুপুরে মাদরাসাটিতে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষকরা লাইব্রেরিতে খোশগল্পে মেতে আছেন। ওয়ান থেকে এবতেদায়ি পর্যন্ত ক্লাসগুলোতে দুই থেকে চারজন করে শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। তাও শিক্ষক ক্লাসে না আসায় তারাও অলস সময় কাটাচ্ছে। কেউ কেউ ক্লাস রুম বা বাইরে হৈ-হুল্লোড় করছে।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুল ওয়াহাব বলেন, তার নিবন্ধন সনদ জাল না। নিয়োগের দুই-তিন বছর পর তিনি নিবন্ধন পাস করেছেন। বিষয়টির জন্য ম্যানেজিং কমিটি ও নিয়োগকারীরা দায়ী।
মাদরাসায় গিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রুবিয়া খাতুনের খোঁজ করলে তার ছোট ছেলে শিক্ষক আবদুল ওহাবসহ অন্য শিক্ষকরা বলেন, তিনি আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে গেছেন। তাদের কাছ থেকে একটি নাম্বার পাওয়া যায়। সেই নাম্বারে ফোন করলে সভাপতির বড় ছেলে আব্দুর রউফ রিসিভ করেন। তিনি বলেন, ‘মা ফোন ব্যবহার করেন না।’
ভারপ্রাপ্ত সুপার তহমিনা পারভিন বলেন, ‘২০ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করার বিষয়টি একটি অ্যাক্সিডেন্ট মাত্র। আগামীতে ভালো করার চেষ্টা করবো।’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান বলেন, ‘রিজিয়া রুবিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসার শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। বিয়য়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন