শিক্ষার্থীদের উলঙ্গ হতে বাধ্য করলেন প্রধান শিক্ষক!

আপডেট: 06:49:57 11/07/2017



img

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : কেশবপুরের সানতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার প্রতিষ্ঠানের ছয় শিক্ষার্থীকে প্যান্ট খুলে উলঙ্গ হতে বাধ্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা ফুটবল খেলতে চাওয়ায় প্রধান শিক্ষক এই কাণ্ড ঘটান বলে অভিভাবকরা বলছেন।
ওই ছয় শিক্ষার্থী পরদিন লজ্জায় স্কুলে যেতে না চাওয়ায় ঘটনা জানাজানি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের অপসারণ চাইছেন।
উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়নের সানতলা গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়টির অবস্থান। প্রাচীন স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রবীন্দ্রনাথ সরকার।
প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য জালাল উদ্দীন বিশ্বাস জানান, গত রোববার দুপুরে বিদ্যালয়ের কয়েক শিক্ষার্থীরা ফুটবল খেলার জন্যে বল আনতে যায় প্রধান শিক্ষকের কাছে। আগত শিক্ষার্থীদের বল না দিয়ে প্রধান শিক্ষক শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের খেলতে দেন। এরপরও তারা বল খেলতে চাইলে ওই প্রধান শিক্ষক পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রিয়াজ, সবুজ, তৃতীয় শ্রেণির আব্দুল্লাহ, মুজাহিদসহ ছয় শিক্ষার্থীকে একটি শ্রেণিকক্ষে ডেকে নিয়ে প্যান্ট খুলে উলঙ্গ হতে বলেন। লজ্জায় ওই সমস্ত শিক্ষার্থীদের মুখ লাল হয়ে গেলেও প্রধান শিক্ষকের হুকুমে তারা বাধ্য হয় প্যান্ট খুলতে। শিশু শ্রেণীর শিক্ষার্থী সিয়াম জানালা দিয়ে এ দৃশ্য দেখে বাড়ির সবাইকে ঘটনা জানিয়ে দেয়। ওই রাতেই অভিভাবকরা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। 
অভিভাবক হাসান আলী জানান, ওই প্রধান শিক্ষক কোনো শিক্ষার্থীকে স্কুলের টয়লেট ব্যবহার করতে দেন না। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে শিক্ষার্থীদের বাড়ির পথ ধরতে হয়।
প্রধান শিক্ষক সসম্মানে বিদায় না হলে সাত দিন পর স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে বলে এই অভিভাবক হুঁশিয়ারি দেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ সরকার অবশ্য এই অপকর্মের কথা অস্বীকার করেছেন।
তার ভাষ্য, ‘এক সপ্তাহ আগে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহর খতনা দিয়েছিল তার পরিবার। আমি তার কাটা স্থানে ঘা শুকিয়েছে কি-না দেখতে চেয়েছিলাম। গ্রামবাসী ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন।’
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লক্ষ্মণ হালদার বলেন, ‘ওই শিক্ষক যে কাণ্ড ঘটিয়েছে তাতে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ। তাকে সাত দিনের মধ্যে এ স্কুল ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রভাতকুমার রায় বলেন, ‘তিনটি বিষয়ের ওপর তদন্তের জন্যে গত সোমবার স্কুলটি পরিদর্শন করা হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
স্থানীয়রা জানান, ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় স্কুলটি। সেই থেকে শিক্ষার্থীদের পদভারে প্রতিষ্ঠানটি মুখরিত ছিল। সহকারী শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ সরকার ২০০৩ সালে স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এর পর থেকে তার একের পর এক অপকর্ম, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে অভিভাবকরা এ স্কুল থেকে তাদের ছেলে-মেয়েদের অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়ে ভর্তি করাতে শুরু  করেন।
তারা বলছেন, এরপরও ২০১০ সালে রবীন্দ্রনাথ তার স্ত্রী কাকলিরানি সরকারকে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে বদলি করিয়ে নিজ স্কুলে নিয়ে আসেন। স্বামী-স্ত্রী একই স্কুলে কাজের সুযোগ পেয়ে তারা আরো স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেন। যার কারণে স্কুলটিতে শিক্ষার্থী কমতে কমতে এখন ৩০-৩৫  জনে ঠেকেছে।
গত সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তৃতীয় শ্রেণিতে চারজন, চতুর্থ শ্রেণিতে পাঁচজন ও পঞ্চম শ্রেণিতে ছনজন শিক্ষার্থী উপস্থিত।

আরও পড়ুন