শিশুদের দিয়ে মাটি টানালেন শিক্ষকরা

আপডেট: 03:30:08 12/01/2017



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : যশোরের মণিরামপুরে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের দিয়ে মাঠ থেকে মাটির চাক বহন করানোর অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।
বুধবার স্কুল সময়ে নেহালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ কাজ করিয়েছেন। তারা বাচ্চাদের দিয়ে স্কুল থেকে দূরে মাঠ থেকে মাটি বহন করিয়ে একতলার ছাদে তুলিয়েছেন বলে অভিযোগ।
তবে, ওই প্রতিষ্ঠান প্রধান তাপস বিশ্বাস তার অজান্তেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নেহালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একতলার ছাদে টবে ফুলগাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। আর বাগান করতে যাবতীয় মাটি স্কুলের ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে বহন করিয়ে ছাদে তুলিয়েছেন শিক্ষকরা। যদিও স্কুলের উন্নয়নে সব খরচ বহন করে সরকার। বুধবার দুপুরে স্কুল চলাকালীন শিশুদের দিয়ে এই মাটি বহন করানো হয়েছে। ওই সময় শিশুদেরকে ঝুঁড়িতে ও কাঁধে করে দূরের মাঠ থেকে মাটি বয়ে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপস বিশ্বাস বলেন, ‘ছাদে টবে আমরা বাগান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বুধবার উপজেলায় আমাদের মাসিক মিটিং ছিল। সকাল সাড়ে ১০ টায় মিটিংয়ের উদ্দেশে স্কুল ত্যাগ করি। তখন অন্যান্য শিক্ষকদের বলেছি, ভ্যান ভাড়া করে একজন শ্রমিক দিয়ে মাটি ছাদে তুলতে। পরে শুনি সাধনা ম্যাডাম বাচ্চাদের দিয়ে মাটি টানার কাজ করিয়েছেন।'   তার ছেলে আর্য বিশ্বাসকে দিয়েও মাটি টানার কাজ করিয়েছেন- দাবি করেছেন প্রধানশিক্ষক। আর্য ওই স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্র।
শিশুদের দিয়ে একাজ করানো যাবে কি না এমন প্রশ্নে তাপস বিশ্বাস বলেন, ‌‘এটা কখনো সম্ভব নয়।’
তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নেহালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুস সাদাৎ বলেন, ‘যদি এমনটি হয়ে থাকে তাহলে সেটি মোটেও ঠিক হয়নি।’
তাছাড়া প্রধান শিক্ষকের অজান্তে এমন কাজ হতে পারে বলে বিশ্বাস করতে নারাজ ইউপি চেয়ারম্যান।
মহাদেবপুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন,‘সরকারি স্কুলের উন্নয়নের কাজে সরকার টাকা দেয়। আর সেই কাজ বাচ্চাদের দিয়ে করানো ঠিক হয়নি। আবার সেটাও না কি মাটি টানার কাজ।’
বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন এই শিক্ষক।
জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর জব্বার সরদার বলেন, ‘বিষয়টি জানা নেই ‘
অফিস সময়ে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। 

আরও পড়ুন