শীতকালে হাঁপানি : দরকার বাড়তি সতর্কতা

আপডেট: 04:12:20 17/11/2018



img

এস এম রাকিবুল হাসান (মিশন) : ঋতু বদলের পালাক্রমে আসছে শীত। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে কিছু বিশেষ রোগ। শীত মৌসুমে যেসব রোগের প্রকোপ বাড়ে এর মধ্যে অ্যাজমা বা হাঁপানি অন্যতম। তাই সময় এসেছে এই রোগ সম্পর্কে জানার ও সতর্ক থাকার।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট থেকে জানা যায়, পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৩০ কোটি লোক অ্যাজমায় আক্রান্ত, যা ২০২৫ সাল নাগাদ ৪০ কোটিতে পৌঁছবে। বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক কোটি দশ লাখ। যার মধ্যে ৪০ লাখই শিশু। ৬৫% মানুষের আক্রান্ত হওয়ার কারণ অ্যালার্জি।
প্রতি বছরে বিশ্বে ২৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এই রোগের কারণে। এর মধ্যে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা চার লাখের মতো।

অ্যাজমা বা হাঁপানি কী
দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ এবং সংবেদনশীলতার  (Hypersensitivity) কারণে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয়, যাকে বলে হাঁপানি বা অ্যাজমা । এর ফলে আমাদের শ্বাসনালীর স্বাভাবিক ব্যাস কমে গিয়ে আগের চেয়ে সরু হয়ে যায়। যার ফলে ফুসফুসে পর্যাপ্ত বাতাস যাতায়াত করতে পারে না এবং দেহ অক্সিজেনের অভাব অনুভব করতে শুরু করে। গ্রিক ভাষায় অ্যাজমা শব্দের অর্থ হলো হাঁপ ধরা অথবা হা করে শ্বাস টানা। গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস যে কোনো ধরনের শ্বাসকষ্টকে হাঁপানি নাম দিয়েছিলেন। নারী-পুরুষ-নির্বিশেষে যেকোনো বয়সে যেকোনো মানুষের এ রোগ হতে পারে। তবে এটি জানা প্রয়োজন, হাঁপানি কোনো ছোঁয়াচে রোগ না।

অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগের কারণ কী
অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট এমন একটা রোগ যার নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। এ রোগের জন্য কোনো কিছুকে এককভাবে দায়ী করা যায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, কারো কারো বংশগত কারণে বা পরিবেশগত কারণেও এ রোগ হতে পারে।
একই পরিবেশে একজনের অ্যাজমা অ্যাটাক হচ্ছে, কিন্তু অন্যজনের হচ্ছে না। এর প্রধান কারণ ওই আবহাওয়ায় এমন কিছু জিনিস আছে, যার অ্যাজমা এটাক হলো তিনি ওই জিনিসের প্রতি সংবেদনশীল। ওই সব জিনিসকে বলা হয় অ্যাজমা ট্রিগার বা অ্যালার্জেন। অ্যাজমা ট্রিগার বা অ্যালার্জেনগুলো মোটামুটি এমন :
১। ধুলোবালি
২। ফুলের রেণু
৩। পোকা-মাকড়
৪। ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম,
৫। কিছু ওষুধ (যেমন এসপিরিন, বিটাব্লকার)
৬। আবেগ (দুঃখের, ভয়ের কিংবা আনন্দের কারণে হতে পারে)
৭। ধূমপান(প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ)
৮। পোষা প্রাণী
৯। ঠান্ডা এবং বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস
১০। পশু-পাখির লো্‌ম
১১। অ্যালার্জি জাতীয় খাবার যেমন, গরুর মাংস, ইলিশমাছ, বোয়ালমাছ, চিংড়িমাছ, পাকা কলা, আনারস, বেগুন, নারকেল, হাঁসের মাংস ও ডিম ইত্যাদি।

হাঁপানি রোগের উপসর্গ বা লক্ষণসমূহ
০ বুকের ভিতর বাঁশির মতো সাঁই সাঁই শব্দ হওয়া
০ শ্বাস নিতে ও ছাড়তে কষ্ট হওয়া
০ দম খাটো হয়ে যাওয়া অর্থাৎ ফুসফুস ভরে দম নিতে না পারা
০ ঘন ঘন কাশি
০ বুকে আঁটসাঁট অথবা দম বন্ধ ভাব
০ অস্থিরতা বেড়ে যাওয়া। গলার স্বরের পরিবর্তন হওয়া।
০ স্বস্তিতে রাতে ঘুমাতে না পারা। শুয়ে থাকাকালে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া; বসে থাকলে আরাম অনুভূত হওয়া। এজন্য মাঝেমধ্যে রোগী রাতে ঘুম থেকে উঠে বসে থাকতে পারে।

রোগ নির্ণয়
ওপরের লক্ষণ/উপসর্গগুলোর পাশাপাশি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অ্যাজমা রোগ শনাক্ত করা যায়।
* লাং ফাংশন টেস্ট বা স্পাইরোমেট্রি, যা দিয়ে শ্বাসনালি কতটুকু সরু হয়েছে তা বোঝা যায়।
* কফের মধ্যে থাকা ইয়োসোনোফিলের সংখ্যা থেকে বোঝা যায়, শ্বাসনালিতে কোনো ক্ষত হয়েছে কি-না।
* কখনো কখনো স্কিন অ্যালার্জি পরীক্ষা করে কোন বিশেষ উত্তেজক জিনিস হাঁপানির জন্য দায়ী তা শনাক্ত করা হয়।
* পিক ফ্লো মিটার পরীক্ষা : রোগী কত তাড়াতাড়ি ও কত জোরে ফুঁ দিতে পারে সেটি এ যন্ত্রের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায়। শ্বাসনালি সরু হলে পিক ফ্লো কমে যায়। হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে আছে কি-না, তা এ যন্ত্রের সাহায্যে পরিমাপ করা যায়।

চিকিৎসা
অ্যাজমা রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়ের কোনো ওষুধ যদিও এখন পর্যন্ত বের হয়নি, কিন্তু নির্ভুল চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে হাঁপানি আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। তবে অবহেলা করলে ও সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ না করলে অনেক ক্ষেত্রে এই রোগ মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকে।
হাঁপানির ওষুধ দুই ধরনের। ১. রেসকিউ মেডিকেশন বা উপশমকারী ওষুধ এবং ২. কন্ট্রোলার মেডিকেশন বা প্রতিরোধকারী ওষুধ। উপশমকারী ওষুধের আরেক নাম ব্রঙ্কোডাইলেটর। এই ওষুধগুলো সংকীর্ণ শ্বাসনালীর পথকে খুলে দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শ্বাসকষ্টের যন্ত্রণা কমিয়ে দেয়।
বাধাদানকারী বা প্রতিরোধকারী ওষুধ দুই ধরনের যেমন স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ও ক্রোমগ্লাইকেট জাতীয় ওষুধ। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ অ্যাজমা রোগীদের জন্য জীবন রক্ষাকারী হিসেবে চিহ্নিত।
মনে রাখতে হবে কন্ট্রোলার মেডিকেশনগুলো হঠাৎ অ্যাটাকে কখনই কাজ করে না। এজন্য অবশ্যই রেসকিউ মেডিকেশনগুলো যেমন- সালবিউটামল জাতীয় ইনহেলার ব্যবহার করতে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগবেন না। অনেকে মনে করেন, প্রথম অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করলে সারাজীবন ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু এই ধারণা সঠিক না। মনে রাখতে হবে, হঠাৎ অ্যাটাকে ইনহেলার ব্যবহারের বিকল্প নেই।
তবে অ্যাজমা রোগীর শ্বাসকষ্ট যদি একেবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় সে ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে করণীয়
১. অ্যালার্জিকারক বস্তু এড়িয়ে চলা। যেমন : ধুলো, বালি, ঘরের ঝুল, ধোঁয়া ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা।
২. ধূমপান করবেন না। ধূমপায়ীকে এড়িয়ে চলুন।
৩. শয়নকক্ষে খুব বেশি মালামাল রাখবেন না।
৪. ঘরের সম্ভাব্য সব কিছু ঢেকে রাখবেন, যাতে ধুলাবালি কম ওড়ে।
৫. শো-কেস বা বুকসেলফে রাখা পুরনো খাতা, ফাইল, বইপত্র অন্য কাউকে দিয়ে ঝেড়ে নিন।
৬. টিভি, মশারিস্ট্যান্ড, সিলিং, পাখার ওপর জমে থাকা ধুলোবালি সপ্তাহে একবার অন্য কাউকে দিয়ে পরিষ্কার করিয়ে নিন।
৭. বাস, মোটরগাড়ি বা যানবাহনের ধোঁয়া থেকে দূরে থাকুন।
৮. হাঁপানিতে আক্রান্ত রোগীর বাসায় হাঁস-মুরগি, বিড়াল, কুকুর, পোষাপ্রাণী যেন না থাকে এবং এগুলোর সংস্পর্শে যেন না আসেন।
৯. উগ্র সুগন্ধি ব্যবহার করবেন না। তীব্র দুর্গন্ধ, ঝাঁজালো গন্ধ থেকে দূরে থাকুন।
১০. ঘাসের ওপর বসে থাকা পরিহার করুন। নিজে ঘাস বা গাছ কাটবেন না।
১১. সর্বদা ধুলাবালি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।
১২. নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। জোরে শ্বাস টানুন, প্রায় ১৫ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখুন। দুই ঠোঁট শীষ দেওয়ার ভঙিতে আনুন এবং ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে শ্বাস ফেলুন প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে দশ মিনিট করে মুক্ত পরিবেশে।
১৩. সর্বদা ভয় ও চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করুন এবং কখনো হতাশাগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়বেন না।
১৪. ছোট বাচ্চাদের লোমশ পুতুল নিয়ে খেলা করতে দেবেন না।
১৫. খালি নাকে ঘর ঝাড়ু দেবেন না। ঘর ঝাড়ু দিতে হলে মাস্ক, তোয়ালে বা গামছা দিয়ে নাক বেঁধে নেবেন।
১৬. কাশি শক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো এন্টিবায়োটিক ওষুধ খাবেন।
১৭. ফ্রিজের ঠান্ডা পানি/পানীয় কম খাবেন। হালকা গরম পানি পান করবেন।
১৮. মশার কয়েল বা রুম স্প্রে ঘরে ব্যবহার করবেন না।
১৯. বিছানার চাদর বা বালিশের কভার পাঁচ-সাত দিন পর পর ধুয়ে ব্যবহার করবেন।
২০. মশারি সপ্তাহে একবার ধুয়ে ব্যবহার করবেন।
২১. যদি কোনো খাবারে সমস্যা হয়, যেমন- গরুর মাংস, ইলিশমাছ, চিংড়ি, হাঁসের ডিম, বেগুন, কচু, পাকা কলা, আনারস, নারকেল ইত্যাদি কম খাবেন।
২২. যে কোনো সমস্যা হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন ও ডাক্তারের দেওয়া সব নিয়ম/পরামর্শ/ব্যবস্থাপত্র যথাসম্ভব মেনে চলুন।

শীতকালে বাড়তি সতর্কতা
শীতকালে অ্যাজমার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন। যেমন-
* ঠান্ডা খাবার ও পানীয় খাওয়া একেবারে বাদ দিতে হবে।
* কুসুম কুসুম গরম পানি পান করা ভালো।
* হালকা গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করা উচিত।
* প্রয়োজনমতো গরম কাপড় পরা।
* তীব্র শীতের সময় কানঢাকা টুপি পরা এবং গলায় মাফলার ব্যবহার করা।
* ঘরের দরজা-জানালা সব সময় বন্ধ না রেখে মুক্ত ও নির্মল বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা।
* হাঁপানির রোগীরা শীত শুরুর আগেই চিকিৎসকের পরামর্শমতো প্রতিরোধমূলক ইনহেলার বা অন্যান্য ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন।
* যাদের অনেক দিনের শ্বাসজনিত সমস্যা আছে, তাদের জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং নিউমোকক্কাস নিউমোনিয়ার টিকা নেওয়া উচিত।
* তাজা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা, যা দেহকে সতেজ রাখবে এবং রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে।

প্রয়োজন গণসচেতনতা
হাঁপানি রোগ সম্পর্কে অনেক রোগীর ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে, দেশে এই রোগের আধুনিক চিকিৎসা নেই। সচ্ছল রোগীরা তাই পাশের দেশসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা এবং সময় দুটোই নষ্ট করছেন। অন্যদিকে অশিক্ষিত ও দরিদ্র শ্রেণীর রোগীরা মনে করেন, তাবিজ কবজ, পানিপড়া, মালাপড়া, ‘আশ্চর্য হালুয়া’ খেয়ে এই রোগ সেরে যাবে। এসব অপচিকিৎসা, দেরিতে চিকিৎসা, অজ্ঞতা অনেক রোগীকে অকালে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এজন্য রোগীদের জানা দরকার যে, সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা নিলে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা সম্ভব। উন্নত দেশের সকল প্রয়োজনীয পরীক্ষা ও চিকিৎসা বর্তমানে বাংলাদেশেই রয়েছে। অপচিকিৎসা নিয়ে মৃত্যুবরণ কিংবা বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় করে বিদেশে যাওয়ার কোনো দরকার নেই।

সুসংবাদ
অ্যাজমা বা হাঁপানি আর দশটি সাধারণ রোগের মতোই একটি রোগ। এমন ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করার কোন মানেই হয় না যে, অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগটি একবার হলে জীবনটা পঙ্গু হয়ে গেল, আপনি আর কখনো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন না। আসুন পুরো পৃথিবীতে নিজেদের প্রতিভার আলোয় আলোকিত কিছু মানুষকে নতুন করে আরেকবার চিনে নিই যারা সবাই অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগে আক্রান্ত। এই রোগকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তারা ছুঁয়ে দেখেছেন সাফল্যের চূড়া। থিওডর রুজভেল্ট- আমেরিকার ২৬ তম রাষ্ট্রপতি, জন এফ কেনেডি- আমেরিকার ৩৫তম রাষ্ট্রপতি। বিল ক্লিনটন- আমেরিকার ৪২তম রাষ্ট্রপতি। জোসেফ পুলিতজার- যার নামে “পুলিতজার পুরস্কার” প্রদান করা হয় । এলিজাবেথ টেলর- বিখ্যাত অভিনেত্রী। তার অভিনীত সবচেয়ে বিখ্যাত মুভি ‘ক্লিওপেট্রা’। চার্লস ডিকেন্স- বিখ্যাত লেখক। অলিভার টুইস্ট তার সুপরিচিত রচনা।
আর একটি বিষয় হলো যাদের অল্প বয়সে অ্যাজমা শুরু হয় তাদের অনেকে বয়স বাড়লে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান। অ্যাল্যার্জির কারণে যাদের অ্যাজমা হয়, পরিবেশ পরিবর্তন অর্থাৎ এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকা বা দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে গেলে অনেক সময় সুস্থ হয়ে যান।
অ্যালার্জি ও অ্যাজমা কোনো কঠিন রোগ না। একটু মনযোগী হলেই এটি নিয়ন্ত্রণে রেখে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা সম্ভব।
আল্লাহ আমাদের সকলকে সুস্থতা দান করুন।
[লেখক : ডাক্তার, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, ঢাকা]