শুরু হলো মোদির অগ্নিপরীক্ষা

আপডেট: 02:59:11 11/04/2019



img
img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : নানা প্রতিশ্রুতি, পাল্লাপাল্টি অভিযোগ, কাশ্মীর নিয়ে উত্তেজনা, মাওবাদী হামলায় বিধায়কের মৃত্যুর মতো ঘটন অঘটন পেরিয়ে ভারতে শুরু হয়েছে চূড়ান্ত ভোটযুদ্ধ।
৯০ কোটি ভোটারের এই নির্বাচনকে বলা হচ্ছে বিশ্বের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ নির্বাচন।
ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ লোকসভার ৫৪৩টি আসনে ভোট হবে মোট সাত ধাপে। সরকার গঠন করতে হলে অন্তত ২৭২টি আসন পেতে হবে একটি দলকে।
বিরাট এই আয়োজনের প্রথম ধাপে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ১৮টি রাজ্যের ৯১টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে।
সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের সব ধাপের ভোটগ্রহণ শেষে ২৩ মে হবে গণনা; সেদিনই জানা যাবে, কে যাচ্ছেন দিল্লির মসনদে।
ভারতের এবারের সাধারণ নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা হিসেবে।
মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে মূল লড়াইটা হবে ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরনো দল ভারতীয় কংগ্রেসের, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাহুল গান্ধী।
বিভিন্ন জনমত জরিপে মোদির দলের এগিয়ে থাকার আভাস মিললেও রাজ্যের ফলাফলে প্রভাবশালী আঞ্চলিক দলগুলোও ভোটের মোড় ঘুরিতে দেওয়ার শক্তি রাখে।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ পেয়েছিল ৩৩৬টি আসন। যার মধ্যে ২৮২টি আসন জিতে নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল বিজেপি। কংগ্রেস জিতেছিল মাত্র ৪৪টি আসনে।
গত নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৬৬ শতাংশের বেশি। আর সবগুলো আসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিকটতম প্রার্থীকে পাঁচ লাখ ৭০ হাজার ১২৮ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছিলেন তিনি।
লোকসভার মোট আসন সংখ্যা ৫৪৫ হলেও নির্বাচন হয় ৫৪৩টিতে। বাকি দুটি আসন ভারতের অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত৷ তাদের দুই প্রতিনিধি কে হবেন, তা ঠিক করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি৷

এক নজরে ভারতের লোকসভা নির্বাচন
>> প্রায় ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারতে এবার ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৯০ কোটি; যা সমগ্র ইউরোপ ও ব্রাজিলের মোট জনসংখ্যার কাছাকাছি। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ৪৩ কোটি ২০ লাখ। দেশটিতে ১৮ বা তার চেয়ে বেশি বয়সের নাগরিকরা ভোটার হতে পারেন।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৮৩ কোটি। সেবার মোট ভোটারের ৬৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৫৫ কোটি ৩০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন।
>> এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয় ১০ মার্চ। প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে মোট সাত দফায় ভোটগ্রহণ হবে।
>> প্রথম দফায় বৃহস্পতিবার ১৮ রাজ্যের ৯১ আসনে ভোট হচ্ছে। সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। এই ৯১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রায় ১৩শ প্রার্থী।
>> এবারের লোকসভা নির্বাচনের জন্য প্রায় দশ লাখ ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে; গতবারের তুলনায় যা ১০ শতাংশ বেশি। কোনো কেন্দ্রই যেন ভোটারদের থেকে দুই কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে না থাকে, এই নির্দেশনা মেনেই এবার এতগুলো কেন্দ্র বসানো হয়েছে।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মকর্তারা পায়ে হেঁটে, সড়কপথে, বিশেষ ট্রেন, হেলিকপ্টার, নৌকা এমনকী কখনো কখনো হাতির পিঠে চেপে কেন্দ্রে যাবেন।
>> ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রতিটি সংসদীয় আসনে গড়ে ১৫ জন করে প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে একটি আসনে ছিলেন সর্বাধিক ৪২ জন প্রার্থী। গতবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আট হাজার ২৫১ প্রার্থীর মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র ৬৬৮ জন। এবারের চিত্রও প্রায় একই রকম।

ভোটের ব্যয়
ভারতীয় একটি সংস্থার হিসেবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছিল। দেশটিতে নির্বাচনের অংশ নেওয়া দলগুলোকে তাদের আয়ের উৎস প্রকাশ করতে হয়।
গত বছর মোদি সরকার নির্বাচনী বন্ড ছাড়ে; যা ব্যবসায়ী ও অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রেখে চাঁদা দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।
দাতারা ইতিমধ্যে ১৫ কোটি ডলার বন্ডের মাধ্যমে দিয়েছে; যার সিংহভাগই গেছে বিজেপির কাছে।

নারী ভোটার
২০১৪ সালের নির্বাচনে নারী ও পুরুষের ভোটারের ব্যবধান ছিল খুব কম। নারীদের ভোটের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৩ শতাংশ। আর পুরুষের ছিল ৬৭ দশমিক ১ শতাংশ।
এবারের নির্বাচনেও প্রধান দলগুলো নারী ভোটারদের কথা মাথায় রেখে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিজেপি-কংগ্রেস উভয় দলই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে নারীদের জন্য লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলেছেন।

নরেন্দ্র মোদি
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বেই বিজেপি ২৮২টি আসনে জিতে বড় জয় পেয়েছিল। সেটিই ছিল প্রথমবারের মতো বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
এর পুরো কৃতিত্ব দেওয়া হয় মোদিকে, যিনি একজন পরিশ্রমী নেতা হিসেবে দলে দারুণ জনপ্রিয়। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহসহ বেশির ভাগ নেতা তার প্রতি বিশ্বস্ত।
মোদি যদিও হিন্দুত্ববাদী ভাবমূর্তি এবং গত মেয়াদে দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় কিছুটা বেকায়ায় আছেন, তারপরও তিনিই বিজেপির তুরুপের তাস। বিরোধী পক্ষেরও টার্গেট তাই মোদি।

অর্থনীতিই মূল বিষয়?
মোদি সরকারের সময়ে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি কিছুটা গতি হারিয়েছে। খাদ্যশস্যের দাম পড়ে যাওয়ার কৃষকরাও ক্ষুব্ধ। মোদির আমলে একাধিকবার বড় আকারে কৃষক বিক্ষোভ হয়েছে।
২০১৬ সালের নোট নিষিদ্ধের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আর সার্ভিস ট্যাক্স ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। ভাটা এসেছে রপ্তানি আয়েও, বেড়েছে বেকারত্ব। কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ঋণের দায়ে ডুবতে বসেছে।
এর উত্তরে নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, অর্থনীতিতে সংস্কারের কাজ চলছে।
সূত্র : বিবিসি, বিডিনিউজ

আরও পড়ুন