শেষে পা-ই কি কেটে ফেলতে হয়!

আপডেট: 06:32:43 15/01/2019



img

বিশেষ প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ : প্রথমে ডান পায়ের একটি আঙুলে ছোট্ট একটি ফোট, তারপর পচন শুরু। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন দ্রুত আঙুলটি কেটে ফেলতে হবে। এর জন্য দশ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হবে। অনেকের কাছেই এই টাকা সামান্য। কিন্তু তা-ই জোগাড় করতে না পেরে পচন ধরা আঙুলটি কাটতে পারছেন না হতদরিদ্র মিন্টু সর্দার। আর কাটতে না পারার কারণে আঙুলের পচন আস্তে আস্তে পায়ের মূল অংশের দিকে এগিয়ে আসছে। মিন্টুর আশংকা, এক সময় হয়তো তার গোটা পাই কেটে ফেলতে হবে।
মিন্টু সর্দার (২৮) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মহেশ্বরচাঁদা গ্রামের কোরবান আলী সর্দারের ছেলে। তিনি হোটেল শ্রমিক। বাবা অসুস্থ হওয়ায় মা রহিমা খাতুন নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালান।
রহিমা খাতুন জানান, তাদের কোনো জায়গা-জমি নেই। মাত্র চার শতক জমির উপর টিনের ছাপড়া করে বসবাস করেন। ছেলে মিন্টু একটি হোটেলে শ্রমিকের কাজ করেন। তাকে বিয়েও দিয়েছেন। বর্তমানে মুন্ন ও মুন্নি নামে তার দুটি সন্তান রয়েছে।
রহিমা খাতুন জানান, অত্যন্ত কষ্ট করে চলে তাদের সংসার। ছেলের মতো তিনিও শ্রমিকের কাজ করেন। তাদের দুইজনের আয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। এই অবস্থায় চার মাস হলো ছেলের ডান পায়ের একটি আঙুলে একটি ফোট দেখা দেয়। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে সেখানে পচন ধরে যায়। তিনি ছেলেকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকেরা দেখে দ্রুত আঙুলটি কেটে ফেলতে হবে বলে জানান। এ জন্য ২৫ হাজারের মতো টাকা খরচ হবে।
রহিমা খাতুন জানান, একসঙ্গে এতো টাকা জোগাড় করতে পারেননি তারা। তাই ছেলেকে নিয়ে গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে গেছেন। কখনো কবিরাজ দিয়ে চিকিৎসার চেষ্টা করেছেন। এতে তার প্রায় ছয় হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
মিন্টু সর্দার জানান, পচন ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। আঙুল থেকে পায়ের পাতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সারাক্ষণ যন্ত্রণা হয় পায়ে। তার আশংকা, গোটা পা কেটে ফেলতে না হয়।
কালীগঞ্জ হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুস সাত্তার জানান, এ জাতীয় রোগীর পায়ের আঙুল সরকারি হাসপাতালে কাটা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে ওষুধপত্র মিলিয়ে দশ হাজার টাকার মতো খরচ হতে পারে। আর বেসরকারি হাসপাতালে খরচ হবে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্রমেই রোগটি খারাপের দিকে যেতে পারে।