শেষ আশ্রয়টুকুও থাকছে না প্রতিবন্ধী তিন ভাইবোনের!

আপডেট: 06:45:22 21/12/2016



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের হাসাডাঙ্গা গ্রামের বয়োবৃদ্ধ আবুল হোসেন (৬২), ছায়েরা (৫৭) ও কতবানু (৫২)। একই মায়ের গর্ভে জন্ম এদের। তিনজনই জন্ম থেকেই অন্ধ, বোবা ও বধির। আবুল হোসেন প্রাপ্ত বয়সে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবন্ধী হওয়ায় সংসার টেকেনি তার। স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে তাকে ছেড়ে চলে গেছে। আর প্রতিবন্ধী হওয়ায় ছায়েরা ও কতবানু নববধূর সাজে সাজতে পারেননি। ফলে হাসাডাঙ্গা গ্রামে পৈত্রিক ভিটায় মাটির ঘরে থাকতেন এই তিন ভাইবোন। অন্যের বাড়ি হতে চেয়েচিন্তে দিন চলত তাদের।
গত বর্ষা মৌসুমে পরপর দু’দফা টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতায় সেই ঘর ভেঙ্গে যাওয়ায় বাড়িঘর ছেড়ে অন্যদের সঙ্গে মহাসড়কের পাশে টংঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা। বেশ কয়েকদিন হলো পানি সরেছে। অন্যরা আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজভিটায় ফিরলেও ফেরা হয়নি এই তিন প্রতিবন্ধীর। একমাত্র বসতঘরটি ভেঙ্গে পড়ায় তারা আশ্রয় নিয়েছেন পাশের গ্রামের ছোটবোন খাদিজার বাড়িতে। খাদিজা পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ১৬ শতক জমির ওপর ঘর করে স্বামী সন্তান নিয়ে থাকেন। সেখানে তিনিই এই তিন প্রতিবন্ধীর দেখভাল করেন। তবে সেই আশ্রয়টুকুও হারাতে বসেছেন তারা। চাচাত ভাই আব্দুর রহমান সেই সম্পত্তি নিজের বলে দাবি করছেন। আব্দুর রহমান খাদিজাসহ তার তিন প্রতিবন্ধী ভাইবোনকে ওই ভিটা থেকে উচ্ছেদের জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
সম্প্রতি তিন প্রতিবন্ধী ভাইবোনের খবর নিতে সরেজমিন হাসাডাঙ্গা গ্রামে গেলে স্থানীয়রা জানান, ওই তিন প্রতিবন্ধীতো এখানে থাকেন না। বৃষ্টির পানিতে ঘর পড়ে যাওয়ার পর থেকে তারা ছোটবোন খাদিজার বাড়িতে থাকেন। সেখান থেকে ঠিকানা নিয়ে একই ইউনিয়নের ফকিররাস্তা মোড়ের অদূরে খাদিজার বাড়িতে গেলে দেখা মেলে তিন প্রতিবন্ধীর।
কথা হয় তাদের আশ্রয়দাতা খাদিজার সঙ্গে। তিনি জানান, বাপ-মা মরার পর থেকে এই তিন ভাইবোনকে তিনিই দেখাশুনা করেন। তার স্বামী আব্দুল হামিদ ট্রাক ড্রাইভার। তাতেই সংসার চলে। তিনিও প্রতিবন্ধী এই তিনজনের যত্ন নেন।
খাদিজা বলেন, ‘বৃষ্টির পানি সরে যাওয়ার পর থেকে তিন ভাইবোন আমার এখানে থাকে। বাপের ১৬ শতক জমির ওপর ঘর করে আমরা থাকি। সেই জমিটা আমার চাচাত ভাই আব্দুর রহমান তার বলে দাবি করছে। আব্দুর রহমান জমিটি আমার আরেক ভাই মৃত আব্দুল বারিকের কাছ থেকে কিনেছে বলে দাবি করছে। তবে সে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারছে না।’ তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে কয়েকদফা শালিস হয়েছে। কিন্তু তা মানছে না আব্দুর রহমান। বরং খাদিজা ও তার স্বামীর নামে দফায় দফায় ১৪ টা মিথ্যা মামলা দিয়েছে বলে দাবি খাদিজার।
প্রতিবন্ধী তিন ভাইবোন সরকারি ভাতা পান কি না জানতে চাইলে খাদিজা বলেন, ‘আবুল হোসেন ও কতবানুর নামে প্রতিবন্ধীর কার্ড হয়েছে। কিন্তু অপরজনের কোনো কার্ড হয়নি।’ তবে এই ভাতায় তাদের দিন চলে না বলে জানান তিনি। প্রতিবন্ধী এই তিন ভাই বোনের জন্য সরকারের বিশেষ দৃষ্টি কামনা করেন খাদিজা।
মোবাইল নম্বর না থাকায় অভিযুক্ত আব্দুর রহমানের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি জানান, ওই তিন প্রতিবন্ধী সরকারের পক্ষ থেকে ঘর পাবে। আগামী মাসেই ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেন। তাছাড়া আগামীতে তিনি ছায়রার নামে প্রতিবন্ধীর কার্ড করে দেবেন বলেও জানান।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, প্রতিবন্ধী তিন ভাইবোনকে টিন দেয়া হবে।

আরও পড়ুন