শৈত্যপ্রবাহে চুয়াডাঙ্গায় জনজীবন বিপর্যস্ত

আপডেট: 06:02:26 06/01/2018



img
img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : শৈত্যপ্রবাহের কারণে চুয়াডাঙ্গায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত তিনদিন ধরে চলছে এ অবস্থা। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রতিদিনই শীতে অসুস্থ হয়ে রোগী ভর্তি হচ্ছে।
এদিকে, গত শুক্রবার রাতে জীবননগর উপজেলার বসতিপাড়ায় রওশন আলী (৫৮) ও ধোপাখালী গ্রামের রকিম উদ্দিন (৬২) কোল্ড স্ট্রোকে মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু কনসালটেন্ট ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন জানান, গত চার দিনে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল দশটায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৩৩ ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৩০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা জানান, চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতের কারণে শিশুরা অসুস্থ হচ্ছে বেশি। শিশুরা ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাতালে এসে ভর্তি হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক জানান, আজ শনিবার চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উপ-মহাদেশীয় উচ্চ চাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মওসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। সে জন্য কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে চুয়াডাঙ্গা তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। গত বুধবার চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি, বৃহস্পতিবার ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং শুক্রবার ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
গত চারদিন চুয়াডাঙ্গা সকাল থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে। জরুরি কাজ ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসগুলোতে যাত্রী সংখ্যা কম দেখা যায়। রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা যাত্রী না পেয়ে অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছে। দিনমজুরদের অবস্থাও একই রকম। ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে দুপুর পর্যন্ত রোদের মুখ দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতির হার কমে গেছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাঈম আস সাকীব জানান, টানা ৪-৫ দিন এমন শীত পড়লে বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতি হতে পারে। তবে ভুট্টাগাছের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ জানান, জেলার চারটি উপজেলায় শীতার্ত মানুষের জন্য সাত হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরো সাড়ে ১৩ হাজার কম্বল আসছে। এছাড়া বেসরকারি নানা সংস্থা শীতার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে।