শৈলকুপার গ্রামে জমজমাট পিঠা উৎসব

আপডেট: 06:04:36 14/01/2018



img
img

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : শীতের মজা খেজুর গুড়ের পিঠা পায়েস। আবহমান কাল থেকে শীত এলেই বাঙালির ঘরে ঘরে নানা প্রকার পিঠা তৈরি ধুম পড়ে। শীতে ধনী বা গরিব সব শ্রেণি-পেশার মানুষের বাড়িতে তৈরি করা হয় পিঠা।
নতুন প্রজন্মকে নানা ধরনের পিঠার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জমজমাট পিঠা উৎসব। উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম দুধসরে আয়োজন করা হয় এ পিঠা উৎসবের।
শনিবার দিনব্যাপী এ আয়োজনে ভীড় জমায় নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। দুধসর গ্রামের ডিজিটাল স্কুলের আয়োজনে পিঠা উৎসবে এসেছিলেন কৃষক-কৃষাণী ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রকমারি পিঠার পসরা সাজিয়ে বসে ছিলেন ওই গ্রামের গৃহবধূরা। দেশীয় নানারকম পিঠার স্টল প্রদর্শন করেছেন তারা। তাদের পিঠার মধ্যে ছিল, পাটিসাপটা, উষ্ণ গুঞ্জা, ফুলঝুরি, ভাজাপুলি, পানিদৌলা, পাকান পিঠা, বাঁধাকপির বড়া, সবজিভাঁপা, সেমাই রসগোল্লা, সেমাই কাটসেট, চুসিপিঠা, চন্দ্রপুলি, সরভাজা, ম্যারাপিঠাসহ প্রায় ৫০ রকমের পিঠা।
পছন্দের পিঠা খেতে দূরদুরান্ত থেকে আসেন মানুষ। স্টলে স্টলে ঘুরে পিঠার স্বাদ গ্রহণ করেন তারা।
পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণকারী নাসরিন সুলতানা, আসমা খাতুন, কল্পনা খাতুন বলেন, প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা হলে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারবো। এছাড়া আমাদের বর্তমান প্রজন্ম বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নানা পদের পিঠার স্বাদ গ্রহণ করতে পারবে।
পিঠা উৎসবের আকর্ষণে ঢাকা থেকে এসেছিলেন ওই গ্রামের বধূ সেলিনা জামান ও লাইলা ইমাম। তারা বলেন, এ ধরনের বাহারি পিঠা শহুরে জীবনে মেলে না। তাই গ্রামের নলেন গুড়ের পিঠার স্বাদ গ্রহণ করতে এখানে ছুটে এসেছেন তারা।
এই অনুষ্ঠানে স্থানীয়দের সঙ্গে শামিল হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ডেকিন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. ফারা আজমাত। তিনি বলেন, ‘পিঠা উৎসবে এসে আমি দারুণ খুশি। ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ এলাকার মানুষ যে আয়োজন করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’
অনুষ্ঠানের আয়োজক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ওই গ্রামের সন্তান মো. মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের সাথে দেশীয় সংস্কৃতির পরিচয় করিয়ে দিতেই এ আয়োজন।’
উৎসবে ৭১টি স্টলে পিঠা প্রদর্শন করেন গ্রামটির দেড় শতাধিক গৃহবধূ। শেষে দশ গৃহবধূকে সেরা পিঠা রাঁধুনী হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।

আরও পড়ুন