শ্যামনগরে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছেন মানুষ

আপডেট: 01:28:54 04/05/2019



আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সাতক্ষীরায় শুক্রবার রাত ১২টা থেকে থেমে থেমে দমকা হাওয়া ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ এখনো মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে।
এদিকে, শ্যামগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের গাইনবাড়ি আশ্রয় কেন্দ্রে আয়না মতি বিবি (৯২) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত কওছার আলীর স্ত্রী। রাতে তিনি আশ্রয় কেন্দ্রে উঠার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান।
কৃষি বিভাগের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য থেকে জানা গেছে, ফণীর প্রভাবে জেলায় প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে; যা মোট চাষের ১০ ভাগ। এছাড়া আম ও সবজির সামান্য ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
অপরদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর কুড়িকাউনিয়া ও প্রতাপনগর এবং দেবহাটা উপজেলার খানজিয়ায় ইছামতী নদীর বেঁড়িবাধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ও পদ্মপুকুরের কয়েকটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় তিন বেড়েছে। যার ফলে বেঁড়িবাধ ভাঙনের আতংকে রয়েছে উপকূলীয় এলাকাবাসী।
উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরসহ কিছু কিছু এলাকায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে মানুষ নিজ গৃহে ফিরছেন বলে জানা গেছে। আবহাওয়া এখন অনেকটা শান্ত রয়েছে। তবে সেখানকার আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে রাতে সুপেয় পানি ও শুকনা খাবারের অভাব দেখা দেয়।
তবে, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেছেন, জেলায় ১৬০টি আশ্রয় কেন্দ্রে এক লাখ ৩২ হাজার মানুষ ঠাঁই নেন। প্রস্তুত রাখা হয় ১১৮টি মেডিকেল টিম। এছাড়া উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে পাঁচ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়।
এছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়ার পর্যন্ত জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মএলাকায় থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন