শ্যামনগরে ‘ফণী’র প্রভাব, আশ্রয়কেন্দ্রে বহু মানুষ

আপডেট: 08:54:56 03/05/2019



img

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : ঘুর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে শুক্রবার দুপুরের দিক থেকে উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন অংশে হালকা মাঝারি আকারে থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এছাড়া দুপুরের আগে বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধির পাশাপাশি নদ-নদীসমূহে চার থেকে সাড়ে চার ফুট পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি পায়।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় শুক্রবার দুপুরের পর থেকে উপকূলীয় গাবুরা, পদ্মপুকুর, মুন্সিগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী ও কৈখালী এলাকার প্রায় পঞ্চাশটি সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছেন এসব এলাকার প্রায় আট হাজার মানুষ।
তবে শুক্রবার রাত নয়টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগের রাতের নির্দেশনা মোতাবেক উপকূলবাসীকে শুক্রবার সকাল থেকে কাছাকাছি সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিতে অনুরোধ করা হয়। এছাড়া আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নেওয়া মানুষের জন্য শুকনো খাবার হিসেবে মুড়ি ও পানিসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করা হয়।
আগে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা শ্যামনগরের অন্তর্গত পাঁচ ও ১৫ নম্বর পোল্ডার দুটির প্রায় ৩০ জায়গার ভাঙন বিপজ্জনক থাকায় এসব এলাকার মানুষের মধ্যে তীব্র আতংক বিরাজ করছে।
নীলডুমুর গ্রামের আকবর হোসেন এবং গারাবুরার সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেন জানান, দাতিনাখালী এবং পোড়াকাটলা দুর্গাবাটি এলাকার বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি নাপিতখালী, তিন নম্বর লক্ষ্মীখালী, হরিশখালী, পদ্মপুকুরের কামালকাটিসহ বগ গাবুরা অংশের ভাঙন গোটা এলাকাজুড়ে ভীতি ছড়াচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পানির চাপ ও বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি পেলে যেকোনো সময় এসব এলাকার উপকূল রক্ষা বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গোটা এলাকা প্লাবিত করার আশংকায় রয়েছে হাজার হাজার পরিবার।
এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলা প্রশাসক বৃহস্পতিবার রাতে শ্যামনগরে জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেছেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী আগেভাগে গোটা উপকূলীয় এলাকার ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা পরিবারসমূহকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন