শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবকে স্মরণ

আপডেট: 02:34:54 04/12/2016



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের মুকুটহীন সম্রাট তিনি। তার গাওয়া প্রায় সব গানই আজো মুখে মুখে ফেরে গানপ্রিয়দের। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানে তিনি তৈরি করেছিলেন স্বতন্ত্র ধারা।
৪ ডিসেম্বর এই গুণী কণ্ঠশিল্পীর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০০ সালের এই দিনে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। ভাইসাবও কইয়েন না, ও জেডা ফইরার বাপ, ভানুরে ও ভানু আঁই যাইয়ুঁম চাঁটগা শরত, ও ভাই বাস কন্ডাকটার, চল আঁরা ধাই, আঁর বাইক্যা টেয়াঁ দে, আঁর বউঅরে আঁই কিলাইউম, আঙ্গো বাইত, দেশে গেলে কইয়েনগো, ভাইজান চাডিগাঁয়ে চাকরি একখান হাইছি- এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব।
তিনি ১৯২৭ সালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার ফতেয়াবাদ নন্দীরহাট গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। একের পর এক গানে সুর আর গায়কীতে জয় করে নেন লাখো শ্রোতার হৃদয়। জীবদ্দশায় তিনি একাধারে বেতার, টেলিভিশন ও মঞ্চে আঞ্চলিক গানকে সুললিত কণ্ঠে ধারণ করে দর্শক-শ্রোতাদের আনন্দ দিয়ে হৃদয়জুড়ে যে আসন পেতেছিলেন, মৃত্যুর ১৬ বছর পরেও তার সে আসনের দাবিদার আর কেউ হতে পারেনি।
দেশ-বিদেশে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে নিজে যেমন প্রশংসিত হয়েছেন তেমনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংস্কৃতিকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন বিশ্ববাসীর সঙ্গে। তিনি নির্মাণ করেছেন ‘জন্তর মন্তর’ নামের একটি চলচ্চিত্রও। আর অভিনয় করেছেন ‘অশিক্ষিত’ নামের আলোচিত ছবিটিতে। এই কীর্তিময় কর্মের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে তিনি মানুষের মনে যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবেন-এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
আধ্যাত্মিক গানের একনিষ্ঠ সাধক বাবা জয়দাশ বৈষ্ণবের হাত ধরে সংগীত অঙ্গনে প্রবেশ করেন শিশু শ্যাম। শুধু গানই নয়, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মঞ্চে সাবলীল ভঙ্গিতে কৌতুক পরিবেশনও করতেন তিনি। গান আর কৌতুক নিয়ে শিশুকালে এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়ে আগাম জানিয়ে দেন, তিনিই হবেন চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র। ওস্তাদ সুধীর শীলের সান্নিধ্যে শুরু করেন সংগীত সাধনা। ১৯৬৩ সালে তৎকালীন পাকিস্তান বেতার এবং  ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।
শুধু চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় নয়, তিনি নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায়ও অনেক গান গেয়েছেন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত প্রথম মাইজভাণ্ডারী গান ‘আঁরে কন কামত বাঝাই রাখিলা মাইজভাণ্ডারী’ পরিবেশনা দিয়ে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বসে থাকেননি এই শিল্পী। আগরতলা বেতার কেন্দ্র থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহমূলক বহু গণসংগীতে অংশগ্রহণ করেছেন।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের আরেক বরেণ্য শিল্পী শেফালী ঘোষের সঙ্গে দর্শকপ্রিয় জুটি গড়ে উঠেছিল তার। জীবদ্দশায় বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বহু পুরস্কার পেলেও রাষ্ট্রীয় কোনো পদক জোটেনি গুণী এই শিল্পীর। তবে ২০০৮ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) ভূষিত হন তিনি।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন