শ্রাবণী সুরের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

আপডেট: 06:58:07 17/05/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : সুবর্ণভূমিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করেছেন শিক্ষক শ্রাবণী রাহা সুর। গত ১৪ মে সুবর্ণভূমিতে ফের চূড়ান্ত বরখাস্তের মুখে বিতর্কিত শিক্ষক শ্রাবণী সুর শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। পরদিন মধ্যরাতে ই-মেইলযোগে প্রতিবাদ পাঠান যশোর নৈশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এই প্রধান শিক্ষক। প্রতিবাদলিপির সঙ্গে তিনি কয়েকটি ডকুমেন্টও সংযোজন করেন।
তবে প্রতিবাদলিপিতে শ্রাবণী তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত ও তদন্ত কমিটি কর্তৃক প্রমাণিত অভিযোগগুলোর ব্যাপারে তেমন কোনো বক্তব্য দেননি। আজ যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হলো শ্রাবণীর প্রতিবাদ। একই সঙ্গে এই সংক্রান্ত বিষয়ে সুবর্ণভূমি প্রতিবেদকের বক্তব্যও প্রকাশিত হলো।

শ্রাবণী সুরের প্রতিবাদ
আমি শ্রাবণী রাহা সুর।আপনার প্রত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে “ফের চুড়ান্ত বরখাস্ত হতে চলেছেন শ্রাবণী রাহা ওরফে শ্রাবণী সুর” এই সংবাদটি অসত্য উদেশ্য প্রণোদিত ও সবৈব মিথ্যা। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো দুটি অভিযোগ এনে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করার পূর্বে তিনিই যাকে চাকুরিচ্যুত করতে ছয় বছর আগে স্কুল থেকে জাতির জনকের ও জাতিসত্ত্বারপ্রতি অবমাননানদায়ে বহিষ্কার করেছিলেন হটৎই সেই শিক্ষক মুজিবর রহমানকে ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। আমার সাময়িক বরখাস্তদেশ ও ঔ শিক্ষকের ফিরে আসার মধ্যে আমাকে চাকুরিচ্যুত করার স্পষ্ট ইংগিত পেয়ে আমি আমার চাকুরির নিরাপত্তার স্বার্থে মন্ত্রনালয়ে আবেদন করি। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক যশোরকে তদন্ত করার দায়িত্ব মন্ত্রনালয় অর্পণ করে। জেলা প্রসাশক একটি তদন্ত টিম করে দেন। ঐ তদন্তদল তদন্ত করেন। সেখানে আমার বিরুদ্ধে তখন জেলা প্রশাসকের তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে ইকবাল কবির জাহিদ প্রথম দুটিসহ আরো আটটি মোট ১০টি এবং ১১ নং অনন্যা নামে অভিযোগ দাখিল করেন। সভাপতি এই পত্রিকায় সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন ।
 এখানে সেগুলোই মানুষকে বিভ্রান্ত করে এখানে তুলে ধরে আমার সম্মানহানি করেছেন। আমি যোগদান করলে তার স্ত্রীর প্রধান শিক্ষক হবার স্বপ্ন ভেস্তে যাবে। তাছাড়া আমার এই যোগদান তার পরাজয় বলেই তিনি এত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন এবং নিজেই নিজেকে সম্মানী সাজাবার জন্য মিমাংসিত বিষয় নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে জনমনে আমার মান সম্মান নষ্ট করতে ও আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এই সংবাদ পরিবেশন ও প্রচার করছেন।
রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদ অনৈতিক ভাবে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করলে মন্ত্রনালয়ে আবেদন করে ছিলাম। আবেদনের শিরোনাম “ জাতির জনকের ও জাতিসত্তারপ্রতি অবমাননাকারিকে ফিরিয়ে আনতে সভাপতি কর্তৃক আমার চাকুরিচ্যুতির চেষ্টা।” তার প্রেক্ষিতে যে সকল বিষয় এইখানে এসেছে তারা তদন্ত হয়। আরো উল্ল্খ্যে হাইকোর্টের রুল অনুসারে দুইমাসের অধিক সাময়িক বরখাস্ত রাখা যাবে না অথচ হাইকোটের আদেশ কে অমান্য করে সভাপতি তার নিজ ক্ষমতায় আমাকে অদ্যবধি মন্ত্রনালয়ের আদেশ পাবার ও বোর্ড চেয়ারম্যানের আদেশ পাবার পর আমাকে ৯ মাস সাময়িক বরখাস্ত রাখেছেন । ২৩/০৪০/২০১৮ তারিখ মন্ত্রনালয় স্মারকঃ ৩৭.০০.০০০০,০৭৩.৪১.১৩৬.১৭.৯৬এ সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের আদেশ মাধ্যমিক ওউচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড যশোরকে দেন । শিক্ষা বোর্ডর চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশে বিদ্যালয় পরিদর্শক ১০-০৫-২০১৮স্মারক নং বিঅ-৬/৬০৫৬ বিদ্যালয়ের সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদের নামে চিঠি ইস্যু করেন। তার প্রেক্ষিতে গত ১০/০৫/২০১৮ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সভাপতির বরাবরে রেজিষ্ট্রির ডাকে চিঠি পাঠান যার রেজিঃ নং-৩৪২ তারিখ ১০/০৫/২০১৮ সেই চিঠির একটি অনুলিপি আমাকে দেওয়া হয়। ঔ অনুলিপি পেয়ে আমি যথাযথ নিয়মে বিদ্যালয়ের সভাপতি বরারবরে আবেদন করেছি।
মন্ত্রণালয়ের আদেশ ও আমার আবেদন সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদের জন্য একটি চরম পরাজয় ভেবে তিনি মরিয়া হয়ে এই মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে চলেছেন
সভাপতি মহোদয় তার স্বপ্নকে ভেসে যেতে দেখে মরিয়া হয়ে আমার বিরুদ্ধে অসত্য নিউজ প্রচার করছেন তাই আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও প্রতিবাদ করছি। সেই সঙ্গে এই প্রত্রিকার সাংবাদিক আমার সাথে কথা না বলেও লিখেছেন “আমার সাথে কথা বলেছেন।” তার এই মিথ্যা তথ্য পরিবেশনেরও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
 যাবতীয় তথ্য সংযুক্ত করছি ।আমার প্রতিবাদ লিপি টি ছাবার জন্য সবিনয়ে অনুরোধ করছি।

প্রতিবেদকের বক্তব্য
সুবর্ণভূমি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শ্রাবণীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সুবর্ণভূমির কাছে আসে। বিদ্বেষপ্রসূত হয়ে রিপোর্ট করার ইচ্ছা থাকলে তখনই তা করা যেত। বরং সেটি না করে পরিপূর্ণ এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় খোঁজ-খবর নিয়ে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যাসত্য যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সুবর্ণভূমি বরং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদের কাছ থেকে অসহযোগিতাই পেয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে গেলে তিনি ‘বিষয়টি তেমন কিছু না’, ‘ঠিক হয়ে যাবে’, ‘এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ ইত্যাদি বলে পাশ কাটাতে চেয়েছেন। ইকবাল কবির জাহিদের সামনে তথ্য-প্রমাণ হাজির করা হলে শেষে তিনি বক্তব্য দিতে বাধ্য হন।
সংবাদটির কোথাও প্রতিবেদকের নিজস্ব কোনো মতামত নেই। সবই উদ্ধৃত করা হয়েছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন থেকে। সুবর্ণভূমির হাতে শ্রাবণী সুরের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ থাকলেও তার সবই ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি। দরকার হলে তা পরে প্রকাশ করা যেতে পারে বলে সুবর্ণভূমি মনে করে।
তদন্ত কমিটির রিপোর্টে সুনির্দিষ্টভাবে যেসব অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছে শুধু সেই দশটি অভিযোগেরই উল্লেখ রয়েছে আলোচ্য রিপোর্টটিতে। তদন্ত কমিটি প্রতিটি অভিযোগেরই প্রমাণ পেয়েছে বলে তাদের দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। আরো বিস্তারিত জানার জন্য অভিযোগকারীদের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে এবং তাদের বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। স্বপ্নারানির কাছ থেকে মোটা টাকা ঘুষ নেওয়ার ঘটনায় স্বপ্নার স্বামী নৃশংকরের সঙ্গে শ্রাবণী সুরের মোবাইলে কথোপকথনে নিজের স্বীকারোক্তিমূলক রেকর্ডিংও সুবর্ণভূমির কাছে রয়েছে। দরকার হলে তা-ও প্রকাশ করা যেতে পারে।
শিক্ষার্থীদের স্কুলড্রেস তৈরির মজুরির টাকা স্কুল থেকে উত্তোলনের পরও তা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করে স্কুলে জমা না দেওয়া, প্রায় সাড়ে চারশ’ ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে তিন লাখ পাঁচ হাজার ৯৫৫ টাকা উত্তোলন, শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ের টাকার দশ শতাংশ নিয়ে আত্মসাৎ করা ইত্যাদি বিষয়গুলো বিদ্যালয়ের নীরিক্ষণ কমিটির রিপোর্ট ও তদন্ত রিপোর্ট উভয়টিতেই উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগসম্বলিত স্কুলব্যাজ তৈরি ও বিতরণের ঘটনায় তিনিই যে এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করতে অন্যদের বাধ্য করেছেন, সেটাও বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন বলে কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন। এই ব্যাজ নিয়ে অভিভাবকদের অসন্তোষ ও প্রতিবাদের প্রমাণও সুবর্ণভূমির হাতে রয়েছে। আবার দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো একটি প্রতিষ্ঠানকেও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন বলেও কমিটির ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সুবর্ণভূমিতে প্রকাশিত সংবাদটিকে শ্রাবণী সুর ‘অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সর্বৈব মিথ্যা’ দাবি করে যে প্রতিবাদ দিয়েছেন, তার কোনো ভিত্তি নেই।
মন্ত্রণালয় ও বোর্ড চেয়ারম্যানের আদেশ পাওয়ার পর সভাপতি তাকে নয় মাস সাময়িক বরখাস্ত রেখেছেন দাবি করে শ্রাবণী সুর যে তথ্য দিচ্ছেন, তাতে দেখা যায়, মন্ত্রণালয় যে চিঠি দিয়েছে সেটি চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল ইস্যু করা। যশোর শিক্ষা বোর্ডের চিঠিটি ইস্যু করা হয়েছে চলতি মে মাসের ১০ তারিখে। তাছাড়া, রিপোর্টের এই অংশের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদের বক্তব্যও সুবর্ণভূমি প্রকাশ করেছে। যেখানে তিনি বলেছেন, তিনি মন্ত্রণালয় বা শিক্ষাবোর্ডের ওই চিঠি দেখেননি। চিঠি দেখে ম্যানেজিং কমিটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলেও তিনি সুবর্ণভূমিকে জানান এবং তা প্রকাশও হয়। ফলে এখানে কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি।
শ্রাবণী সুর দাবি করেছেন, সুবর্ণভূমির প্রতিবেদক তার সঙ্গে কোনো কথা না বলেই লিখেছেন। সুবর্ণভূমির রিপোর্টের কোথাও দাবি করা হয়নি যে, ‘তিনি সুবর্ণভূমিকে বলেছেন’। রিপোর্টটিতে তার বক্তব্যের অংশে লেখা হয়েছে তিনি ‘সংবাদকর্মীকে’ জানান। তিনি নিশ্চয় স্বীকার করবেন, ওই রাতে তার বক্তব্য জানার জন্য মোবাইলে একজন সাংবাদিক তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। সেই কথোপকথনের রেকর্ড সুবর্ণভূমির কাছে রয়েছে।

আরও পড়ুন