শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের মাথায় ছাতা

আপডেট: 08:46:26 12/05/2018



img

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় কেশবপুর উপজেলায় শতভাগ পাশ করা একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টিটাবাজিতপুর এম কে বি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃষ্টি থেকে নিজেকে ও বইপত্র রক্ষা করতে ছাতা মাথায় দিয়ে ক্লাসে বসছে। বিদ্যালয় ভবনের ছাউনির টিন ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় ছাত্রীরা শ্রেণীকক্ষে ছাতা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।
এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলা সদর থেকে ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণে বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের টিটাবাজিতপুর, মোমিনপুর, খোপদহী, ভান্ডাখোলা গ্রামের মাঝখানে টিটাবাজিতপুর এম কে বি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি অবস্থিত। অজপাড়াগাঁয়ে নারী শিক্ষা প্রসারের লক্ষে ১৯৯১ সালের জানুয়ারি মাসে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের সহায়তায় বিদ্যালয়টি গড়ে তোলা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা বিভিন্ন পরীক্ষার ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আসছে। চলতি বছর স্কুলটি থেকে ২০ ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাশের হার ১০০ ভাগ। এর আগেও ২০০৮ ও ২০১২ সালের এসএসসি পরীক্ষায়ও এ প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাশ করেছিল। কিন্তু বিদ্যালয়টিতে রয়েছে নানা সমস্যা। তার মধ্যে প্রধান হলো জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ।
প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান জানান, তার বিদ্যালয়ে বর্তমান প্রায় ২০০ ছাত্রী লেখাপড়া করে। প্রতিষ্ঠালগ্নের সেই একটি ভবনে ছাত্রীদের স্থান সংকুলানও হয় না। পুরনো ওই ভবনটির পেছনের দেওয়ালটিও পুকুরের মধ্যে ধসে পড়ছে।
তিনি বলেন, ‘ফলাফলের দিক থেকে আমার স্কুল কেশবপুর উপজেলার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের থেকে এগিয়ে আছে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান অসম্ভব হয়ে উঠছে। টিনের ছাউনি ছিদ্র হয়ে বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষে পড়ছে। এই অবস্থার মধ্যেও ছাত্রীরা ছাতা মাথায় দিয়ে শেণিকক্ষে পাঠগ্রহণ করছে।’
এ বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, টিটাবাজিতপুর এম কে বি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় বেশ ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই প্রতিষ্ঠানকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

আরও পড়ুন