সংবাদকর্মীদের জন্য নতুন ওয়েজবোর্ড গঠন

আপডেট: 05:15:36 29/01/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার কর্মীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করেছে সরকার।
আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. নিজামুল হককে প্রধান করে সোমবার তথ্য মন্ত্রণালয় ১৩ সদস্যের এই ওয়েজবোর্ড গঠন করে আদেশ জারি করেছে।
ভারপ্রাপ্ত তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ নতুন ওয়েজবোর্ড গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আগামীকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ওয়েজবোর্ডের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।”
আদেশে বলা হয়েছে, নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড গঠনের ছয় মাসের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করবে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীদের বিষয়টি আইনগত পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এই বোর্ড সুপারিশ দেবে।
“প্রস্তাবিত ওয়েজবোর্ড প্রয়োজনে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সংবাদপত্র কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা প্রদানের বিষয় বিবেচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করতে পারবে।”
সাংবাদিকদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে ২০১২ সালের ১৮ জুন অষ্টম ওয়েজবোর্ড গঠন করেছিল সরকার। এর কয়েক মাস পর ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার ঘোষণা দেওয়া হয়, যা ২০১২ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়।
আগের ওয়েজবোর্ড গঠনের পাঁচ বছর সাত মাসেরও বেশি সময় পর নতুন ওয়েজবোর্ড গঠন করলো সরকার।
পাঁচ বছরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো দিতে আট মাসের কম সময় পাবে তথ্য মন্ত্রণালয়। অষ্টম ওয়েজবোর্ড গঠনের ১৫ মাস পর নবম বেতন কাঠামো ঘোষণা করে সরকার।
সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার কর্মীদের বেতন গড়ে তাদের মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অষ্টম মজুরি কাঠামো ঘোষণা করে সরকার, যা ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়।
২০১৫ সালে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পর থেকে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো। এই দাবিতে দীর্ঘদিন কর্মসূচিও পালন করে তারা।
নবম ওয়েজবোর্ড গঠনের কাজ এগিয়ে নিলেও সংবাদপত্রের মালিক সংগঠন নোয়াবের প্রতিনিধি না পাওয়ায় নতুন ওয়েজবোর্ড গঠন করতে পারছিল না তথ্য মন্ত্রণালয়।
কয়েক দফা সময় বেঁধে দিয়েও ওয়েজবোর্ড গঠন না করায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন; জাতীয় প্রেসক্লাবে তথ্যমন্ত্রীকে অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করা হয়।

বোর্ডে আছেন যারা
মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিউর রহমান, সহসভাপতি এ কে আজাদ, কোষাধ্যক্ষ মতিউর রহমান চৌধুরী, সদস্য মাহফুজ আনাম ও তাসমিমা হোসেনকে বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদের আহ্বায়ক এম জি কিবরিয়া চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও মহাসচিব ওমর ফারুক, বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মো. মতিউর রহমান তালুকদার ও মহাসচিব মো. খায়রুল ইসলাম, বাংলাদেশে ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজপোপার প্রেস ওয়ার্কার্সের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন খান ও মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিনকে বোর্ডে রাখা হয়েছে।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (প্রেস) মো. মিজান-উল আলম নবম ওয়েজবোর্ড মজুরি বোর্ডের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তথ্য মন্ত্রণালয় নবম সংবাদপত্র মজুরিবোর্ডকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।
আদেশে বলা হয়েছে, “নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড অষ্টম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদাদ পর্যালোচনা করে সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থায় নিয়োজিত সাংবাদিক, সাধারণ কর্মচারী ও প্রেস শ্রমিকদের জন্য বেতনভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সুপারিশ করবে।
“সুপারিশ প্রণয়নকালে সংবাদপত্র মজুরিবোর্ড সংবাদপত্রে বিদ্যমান আর্থিক অবস্থা ও সক্ষমতা, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকার, করপোরেশন এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সমতুল্য চাকরির মজুরির বিরাজমান হার, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল/এলাকার সংবাদ শিল্পের বিদ্যমান অবস্থা এবং বোর্ডের বিবেচনায় প্রাসঙ্গিক অন্যান্য অবস্থা বিবেচনা করে দেখবে।”
সূত্র : বিডিনিউজ