সদ্যবিদায়ী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

আপডেট: 08:42:15 10/05/2018



img

নড়াইল প্রতিনিধি : সদ্যবিদায়ী নড়াইল সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন সদর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নড়াইল প্রেসক্লাবে শিক্ষক সমিতির নেতারা সংবাদ সম্মেলনে এসে অভিযোগগুলো তোলেন। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সদর উপজেলা সরকারি প্রাথিমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি অমিতোষ বিশ্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৯ মার্চ ২৩৫/২৭ নম্বর স্মারকে শূন্য পদে কোনো সার্কুলার ছাড়া সদর উপজেলার আটটি স্কুলের সহকারী শিক্ষককে মোটা টাকার বিনিময়ে বদলি করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু হেনা মোস্তফা কামাল। যেমন সদরের পাচুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শামীমা নাসরিনকে নীতিবহির্ভূতভাবে সদরের বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেছেন।
মার্চ মাসের ২৯ তারিখে শামীমাকে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও তিনি ৫ এপ্রিল পর্যন্ত পাচুড়িয়া স্কুলের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন এবং ৭ এপ্রিল বনগ্রাম স্কুলে যোগদান করেছেন। আবার সদরের বনগ্রাম সরকারি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিপ্রাদাস সম্প্রতি অন্যত্র বদলি হয়েছেন। তিনি (বিপ্রা) ৩ এপ্রিল পর্যন্ত বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক স্কুলের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেও উপজেলা শিক্ষা অফিসার ২৭ মার্চ এই স্কুলের সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য দেখিয়েছেন। এর আগে শিক্ষক শামীমাকে মোটা টাকার বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে সদরের বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৭ সালে মৌখিক আদেশে এক বছর ডেপুটেশনে রাখা হয়।
শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষা কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় কক্ষ ও শিক্ষার্থী না থাকলেও নড়াইল শহর, শহর-সংলগ্ন এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় সুবিধা হওয়া কমপক্ষে আটটি স্কুলে অতিরিক্ত শিক্ষক বদলি করেছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি অনুদান স্লিপের বরাদ্দ ৪০ হাজার টাকা থেকে ১৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি থেকে সদরের শিক্ষা অফিসার দেড় হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন। এসব স্কুলের আন্তঃপ্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বরাদ্দ থেকেও তিনি টাকা কেটে রেখেছেন।
অভিযোগ করা হয়, গত অর্থবছরে সদরের পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেরামত কাজে বিদ্যালয় প্রতি বরাদ্দ এক লাখ টাকা থেকে ২% ভ্যাটের জায়গায় ২০% টাকা কেটে নিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। সদ্য জাতীয়করণকৃত শিমুলতলি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমলেংশু বিশ্বাসের মৃত্যুর পর ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রয়াত শিক্ষকের পাওনা অর্থ পরিশোধ করেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় তিনজন শিক্ষককে আর্থিকভাবে সাহায্যের জন্য প্রাইমারি শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা সাহায্য তোলা হলেও সাহায্যপ্রার্থী শিক্ষকদের প্রায় অর্ধেক টাকা দিয়ে বাকিটা তিনি নিজে পকেটস্থ করেছেন।
শিক্ষকনেতারা অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরো অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিদায়ী শিক্ষা কর্মকর্তা নড়াইল-২ আসনের এমপির নিকটাত্মীয় হওয়ায় তিনি অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষা অফিসার আবু হেনা মোস্তফা কামাল এসব অভিযোগ সত্যি নয় বলে দাবি করেছেন।
তার ভাষ্য, শিক্ষক বদলির বিষয়টি ডিপিইও দেখেন। আর স্লিপের টাকা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বিদ্যালয় মেরামত, শিক্ষকদের সাহায্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি শিক্ষকদের একটি ছোট গ্রুপ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে করছে।
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহ আলম বলেন, যেহেতু ওই শিক্ষা অফিসার অন্যত্র বদলি হয়ে চলে গেছেন, সেজন্য তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ আনলে বিভাগীয় শিক্ষা কর্মকর্তা বা ডিজি তা তদন্ত করবেন। 
উল্লেখ্য, আবু হেনা মোস্তফা কামাল সম্প্রতি এডিপিও পদে পদোন্নতি পেয়ে বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসে তার যোগদান করেছেন।

আরও পড়ুন