সনুর মৃত্যুতে যশোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া

আপডেট: 08:19:08 24/01/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বহুল পরিচিত মুখ ছিলেন সনু চৌধুরী। নিজে নাট্যকর্মী ছাড়াও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে আজীবন তাকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। সদাহাস্যোজ্জ্বল এই মানুষটি ছিলেন সবার প্রিয়। গত পহেলা বৈশাখে পৌর উদ্যানে উদীচী আয়োজিত অনুষ্ঠানে যাত্রাপালায় শেষ অভিনয় করেন সনু চৌধুরী।
এদিকে সংগঠনের সিনিয়র ও সক্রিয় সহকর্মীর মৃত্যুতে উদীচী যশোরের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে তিন দিনের শোক।
উদীচী যশোরের সভাপতি ও যশোর জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ডি এম শাহিদুজ্জামান সুবর্ণভূমিকে জানান, ১৯৮০ সালে প্রখ্যাত নাট্যাভিনেতা, নির্দেশক কামাল উদ্দিন নিলুর পরিচালনায় নাট্যকর্মী ওয়ার্কশপে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে উদীচী যশোরের সঙ্গে সনু চৌধুরীর সম্পৃক্ততা। ওই ওয়ার্কশপে সনু ও তার বড় ভাই প্রখ্যাত অভিনেতা সমু চৌধুরী একসঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন।
উদীচী সভাপতি আরো জানান, ১৯৮০-এর সেই ওয়ার্কশপের পর যশোর উদীচী প্রথম ‘মিছিল’ নামে একটি নাটক মঞ্চায়ন করে। সেই নাটক থেকে শুরু করে সংগঠনের প্রতিটি নাটক ও যাত্রাপালায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সনু চৌধুরী। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘নরকগুলজার’, ‘মেছো রাক্ষস’, ‘মড়া’, ‘চমচম কুমার’।
সনু চৌধুরী উদীচী যশোরের চলতি কমিটির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও সংগঠন পরিচালিত ‘অক্ষর শিশু শিক্ষালয়’-এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন বলে জানান শাহিদুজ্জামান। সংগঠনের সিনিয়র সদস্যদের মধ্যে সনু অন্যতম ছিলেন উল্লেখ করে শহিদ বলেন, ‘সনু উদীচীতে আমারও দুই বছর আগে এসেছিলেন। তিনি ছিলেন সংস্কৃতি অন্তপ্রাণ মানুষ। সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রমে তার ভ‚মিকা ছিল অপরিসীম। তার মতো একজন সহকর্মীকে হারানোর বেদনা কীভাবে প্রকাশ করবো তা বলে বুঝাতে পারবো না।’
বিবর্তন যশোরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সনু চৌধুরীর খালাতো ভাই আতিকুজ্জামান রনি বলেন, ‘তিনি উদীচী করতেন। ওই সংগঠন ছাড়াও অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীদের সাথে সনু চৌধুরীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। নির্দিষ্ট সংগঠনের বাইরেও তাই তার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা ছিল। তিনি ছিলেন সদাহাস্যোজ্জ্বল মানুষ। এভাবে তার মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।’
এদিকে সনু চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উদীচী যশোরের সভাপতি ডি এম শাহিদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ করিম খান বিপ্লব এবং যশোর জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু।
উদীচী যশোরের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ গনি খান বিপ্লব জানিয়েছেন, সনু চৌধুরীর মৃত্যুতে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনদিনের শোক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সংগঠন কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, সংগঠনের সব বিভাগের কার্যক্রম স্থগিত, সংগঠনের পতাকা অর্ধনমিত রাখা, কালোব্যাজ ধারণ, শোকবই খোলা এবং ৩১ জানুয়ারি বিকেল চারটায় সংগঠন কার্যালয়ে শোকসভা।
বিপ্লব জানান, বৃহস্পতিবার সকাল দশটা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সনু চৌধুরীর লাশ উদীচী যশোর কার্যালয়ে রাখা হবে। বাদজোহর বেজপাড়া নলডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয় ময়দানে জানাজা শেষে যশোর কারবালা কবরস্থানে সনু চৌধুরীকে দাফন করা হবে।