সরে যান, না হলে সরানো হবে : শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট: 07:17:50 13/09/2017



img

খুলনা অফিস : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নহিদ বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস, কোচিং বাণিজ্য এবং নোট-গাইড পড়ানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর সঙ্গে কোনো শিক্ষক যুক্ত থাকলে রেহাই দেওয়া হবে না। তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।
বুধবার দুপুরে খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ অডিটোরিয়ামে খুলনা বিভাগের সব স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং শিক্ষা বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, নৈতিকতা ও জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চল এ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর টিএম জাকির হোসেন।
শিক্ষার গুণগত মান প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকরা ক্লাসে আসে না, পড়ায় না। অথচ বাড়িতে কোচিংয়ের ফাঁদ পেতে রেখেছে। কিছু লোক শিক্ষকতার যোগ্য ও উপযুক্ত নয়। কিন্তু তারা শিক্ষকতায় ঢুকে পড়েছে। তাদের কারণে শ্রেণিকক্ষে সঠিকভাবে লেখাপড়া না হওয়ায় শিক্ষার গুণগত মানও কমে গেছে। এ কারণে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সামনে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। এ ধরনের শিক্ষকরা এ পেশা থেকে হয় নিজেরা সরে যাবেন, অন্যথায় তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে।’
সমাবেশে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম নাহিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আগে সরকারি বিজি প্রেসের কর্মচারীদের যোগসাজসে প্রশ্নপত্র ফাঁস হতো। তাদের ধরা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সম্ভব সব ধরনের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানসহ অন্যান্য শিক্ষকদের মাধ্যমেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত কিছু শিক্ষক এ অনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত। এমনকী অনেকেই মিথ্যা প্রশ্নপত্র তৈরি করেও তা মূল প্রশ্নপত্র বলে পাঁচ হাজার থেকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে থাকে। এ ধরনের অনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত থাকায় এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকার নয়জন প্রিন্সিপ্যাল ও প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। শুধুমাত্র মাদরাসা শিক্ষার্থীই নয়, এখন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ও ধনী পরিবারের সন্তানদেরও ‘কানমন্ত্র’ দিয়ে বেহেস্তে যাওয়ার লোভ দেখিয়ে জঙ্গি বানানো হচ্ছে। হলি আর্টিজান বেকারি এবং শোলাকিয়া হামলায় তার প্রমাণ রয়েছে।’’
‘জঙ্গিবাদ বেহেস্তের নয়, দোজখে যাওয়ার পথ’ উল্লেখ করে তিনি জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের প্রতি নজরদারি বাড়াতে অভিভাবক, শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি ও ইমামসহ সচেতন মহলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থী একটানা দশ দিন ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে তার পরিবারের কাছে খোঁজ নিতে হবে। যদি সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া যায় অথবা সন্দেহজনক কিছু মনে হলে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে জানাতে হবে।’
তিনি শ্রেণিকক্ষে বেত বা লাঠি দিয়ে শাস্তির পরিবর্তে সন্তানের মতো আদর দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগী করতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা) মো. সোহরাব হোসাইন, সচিব (কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগ) মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান ও খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুস সামাদ।
উল্লেখযোগ্যদের মদ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান।

আরও পড়ুন