সাংবাদিক বেলাল হত্যাবার্ষিকী আজ

আপডেট: 03:15:45 11/02/2018



img

খুলনা অফিস : খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সংগ্রামের ব্যুরো প্রধান শেখ বেলাল উদ্দিনের ১৩তম হত্যাবার্ষিকী আজ (রোববার)।
২০০৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত সোয়া নয়টার দিকে খুলনা প্রেসক্লাবের অভ্যর্থনা কক্ষের দরজার সামনে মোটরসাইকেলের হ্যান্ডেলে সন্ত্রাসীদের রাখা রিমোট কন্ট্রোল বোমায় শেখ বেলাল উদ্দিন গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পরের দিন ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ ফেব্রুয়ারি বেলাল উদ্দিন মারা যান।
হামলার ঘটনায় রাতেই খুলনা সদর থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে সাংবাদিককে আহত করা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন। নিহত হওয়ার পর একটি মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
ঘটনার পরের দিন রাতে জনৈক রিকশা চালক ইউনুস মৃধা ওরফে গদা ইউনুসকে নগরীর গোবরচাকা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছিল খুলনা থানা পুলিশ। পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সাংবাদিক দীপ আজাদের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় ধরা পড়া মোফাজ্জেল হোসেন ও চরমপন্থী নেতা স্বাধীন, হাসান, মেরাজুল, টল বাবু ও এখলাসুর রহমানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এদের মধ্যে চরমপন্থী নেতা হাসান, স্বাধীন ও মেরাজুল ইসলামকে সাংবাদিক বেলাল উদ্দিন হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর রিকশাচালক গদা ইউনুস, চরমপন্থী নেতা স্বাধীন ও এখলাসুর রহমান সাংবাদিক বেলা খুনে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। মামলা তদন্তকালে মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০০৫ সালের ২৫ এপ্রিল খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল হোসেন চরমপন্থী নেতা হাসান, স্বাধীন, মেরাজ ও রিকশাচালক গদা ইউনুসকে আসামি করে আদালতে বিস্ফোরক অংশের চার্জশিট দাখিল করেন। সেসময় সাংবাদিকরা দাখিলকৃত চার্জশিট প্রত্যাখান করেন।
অপরদিকে দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুজন শিবির নেতা ছাড়াও চরমপন্থী নেতা রফিকুল ইসলাম ওরফে হাসান, ইকবাল হোসেন স্বাধীন ও মেরাজুল ইসলাম মেরাজ এবং রিকশাচালক গদা ইউনুসকে আসামি করে একই বছর ১৭ নভেম্বর হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২০০৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ওসি আব্দুল হামিদ রিকশাচালক গদা ইউনুসকে বাদ দিয়ে বাকি পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অংশের সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। সিএমএম আদালত থেকে মামলাটি খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতে পাঠানো হয়। ২০০৬ সালের ২৯ জুন আদালতের বিচারক মশিউর রহমান উপরোক্ত ছয় আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। এরপর হত্যা মামলাটি ২০০৭ সালের ১৭ জুন খুলনা বিভাগীয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এখানে ১১১ কার্যদিবস শেষে ২০০৭ সালের ২৯ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুস সালাম শিকদার হত্যা মামলায় আসামি চরমপন্থী নেতা হাসান, স্বাধীন ও মেরাজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, দশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
এদিকে, বিস্ফোরক অংশের মামলাটি একই বছরের ১০ জুলাই দ্রচতবিচার ট্রাইব্যুনালে যায়। এখানে মাত্র ৯৫ কার্যদিবসে উপরোল্লিখিত আসামিদের বিরুদ্ধে একই সাজা দেওয়া হয়। দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত চরমপন্থী নেতা হাসান, স্বাধীন ও মেরাজ কারাভোগ করছে।

দুই দিনের কর্মসূচি গ্রহণ
আজ রোববার মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার সাবেক সভাপতি শেখ বেলাল উদ্দিনের ১৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এমইউজে উদ্যোগে দুই দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ রোববার সকাল দশটায় মরহুমের কবর জিয়ারত ও তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া। এ ছাড়া শেখ বেলাল উদ্দিনের কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনা সভা হবে। গত শুক্রবার এমইউজের নির্বাহী কমিটির সভায় এসব কর্মসূচি নেওয়া হয়। কর্মসূচি সফল করতে এমইউজের সদস্যসহ কর্মরত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিয়নের সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান হিমালয়।

আরও পড়ুন