সাংবাদিক শামছুর রহমানের হত্যাবার্ষিকী পালন

আপডেট: 12:33:58 16/07/2017



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : শ্রদ্ধা, ভালবাসা আর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবিতে যশোরের সাংবাদিকরা পালন করছে শহীদ সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবলের ১৭তম হত্যাবার্ষিকী।
প্রেসক্লাব যশোর, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন রোববার সকালে মরহুমের যশোর কারবালাস্থ সমাধিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে। এরপর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মিলাদ ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।
প্রেসক্লাব যশোর ও সাংবাদিকদের দুটি ইউনিয়ন, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, সংবাদপত্র পরিষদ, স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকার পক্ষ থেকে সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করেন।
এরআগে সাংবাদিকরা কালোব্যাজ ধারণ ও শোকর‌্যালি করে।
দুপুরে যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে অকুতোভয় সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবলের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করে যশোরের জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২০০০ সালের এই দিন সন্ধ্যার পর যশোর শহরের কেন্দ্রস্থল দড়াটানায় নিজ অফিসে (দৈনিক জনকণ্ঠ) কর্মরত অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে তিনি নিহত হন। ঘটনার পরদিন তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার লাকী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
২০০১ সালের ২০ মে সিআইডির তৎকালীন এএসপি দুলালউদ্দিন আকন্দ ১৬জনকে আসামি করে আদালতে এই মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। আসামিরা হলো যশোরের সেলিম ওরফে পাগলা সেলিম, জহির বাদশা, জাহাঙ্গীর, সেলিম ওরফে খচ্চর সেলিম, মিজানুর রহমান, রাসেল, আনারুল, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের নাসির উদ্দিন কালু, খুলনার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিরক, লিটু, দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ প্রতিনিধি মিজানুর রহমান তোতা, যশোর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফকির শওকত, সাংবাদিক ও গবেষক বেনজীন খান, সাংবাদিক নোভা খন্দকার ও মিলন রহমান।
পরবর্তীতে মামলার বর্ধিত তদন্তে দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার ফারাজী আজমল হোসেনকে এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
আসামিদের মধ্যে খুলনার লিটু ক্রসফায়ারে, আনারুল সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছে। নাসিরউদ্দিন কালু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান; হিরক পলাতক। এছাড়া অন্যরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।
২০০৫ সালের আগস্ট মাসে মামলাটি যশোর আদালত থেকে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়। কিন্তু মামলার বাদী ও কয়েকজন আসামি ওই আদালতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করতে হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্ট ‘মামলাটি কেন যশোর আদালতে নেয়া হবে না’- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজও সেই ব্যাখ্যা দেয়নি।
২০০৫ সালের আগস্ট মাসে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুস সামাদ হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। সেই থেকে মামলাটি স্থগিত অবস্থাতেই আছে।

আরও পড়ুন