সাইফ শাহীনের পাঁচটি কবিতা

আপডেট: 03:01:09 09/12/2016



img

ভালবাসার শব্দগুচ্ছ

ভালবাসার শব্দগুলো কেমন করে সাজাই
ভেতর আকাশ ফর্সা হলে হাজার তারা হাসে
স্বপ্নচারী মনে বাজে করুণ বেহাগ সানাই
ভালোবাসার শূন্যতরী চাঁদসাগরে ভাসে

আকাশদেবী ছড়ায় যখন শেষ বিকেলের আবীর
সন্ধ্যাকালে অনেক দূরে নববঁধুর বেশে
শিল্পীর তুলি আঁকায় তখন একটি ছন্দনীড়
কল্পলোকের কুমারীকে গভীর ভালবেসে

ভালবাসা কুমারী একনদী
ভাসিয়ে দেয় হৃদয় সবুজগ্রাম
সেই নদীতে নৌকা থাকে যদি
পার হবে এই তোমার আমার নাম




শুভঙ্করী ইন্দ্রজাল

একদিন অবিশ্বাস্য সত্যের মুদ্রায়
অনৈসর্গিক নুনে জন্মেছিল দৃশ্যের ভ্রুণ
শুরু হল তৃষ্ণার্ত অনামিকা মুদ্রায় শুভঙ্করী ইন্দ্রজাল
অতঃপর এক দুই তিন না ছয়টি ইচ্ছার জিহ্বা
টুকরা টুকরা হয় কুনের বারুদে
টক ঝাল মিষ্টি অবশেষে লবণাক্ত জিহ্বায় আসে প্রাণের জলজ
প্রাণ আহা সে কি প্রাণ চারিদিকে প্রাণের আধার
আদম নক্ষত্রপুঞ্জ তার মাঝে হারায়েছে ছায়াপথ ঈভে
কামের প্রলয়ে ওরা অমরাবতী বীর্য নৃত্যে
বোধের রুপালি নদীজলে
চালিয়েছে অহমের ক্ষিপ্রতরবারি
বিক্ষত করেছে শুধু
সভ্যতার উরুদেশ স্তন আর গ্রীবা
নিসর্গের গ্রন্থ থেকে মানুষ জানেনি আজও নিজ সম্মান
ভুলের প্রসবে তা ইজন্ম নিচ্ছে যত জারযনিয়ম
যুবতী চাঁদের আলো যত্রতত্র লম্পট মেঘের শিকার
গর্ভবতী অরণ্যানী অবৈধ মরুশিশু নগরের পাপে
ক্রমশ যাচ্ছে পেকে সময়ের কেশবতী চুল
অতঃপর একদিন মধ্যরাতে প্রমিথিউস করে অভ্যুত্থান
কবির কলম জাগে কবিকেও জাগিয়েছে বোধ
বোধিদ্রম সৌন্দর্যে নিহত হবেই যত অনিয়ম




বিচ্যুত ছন্দের কাব্য সংজ্ঞা

কবিতাতো দক্ষিণের জানালা যা বন্ধ করলে
বসন্তের শ্রেষ্ঠ বাতাস হয় প্রতারিত
হয়তো কবিতা এক অলৌকিক স্রোতস্বিনী নদী
যার দুকূলে সবুজ সুখে শব্দ শস্য
অথবা কবিতা সেই স্বর্গচ্যুত আদমের লোভ
হয়তোবা অপরূপ ফলটির স্বাদ
অথবা কবিতা কোন মায়াগ্রহ এক
যা অপ্সরী রমণীর মত হাতছানি দিয়ে ডাকে
পৃথিবীর সব কবিদের।




অবচেতনার নূর
                           
বিষাক্ত কাঁটার ঢেউ আয়ুর সমুদ্রে উন্মাতাল
শাণিত শনির চোখে রক্তমাখা অন্ধকারে একা
ভরহীন শয়তান আগুনের সুতো দিয়ে জাল
বুনে রাখা কোন জাল আমাদের বোধের অদেখা

আকাশে চাঁদের তরী বুনো জোছনার পাল তুলে
তিমির কামের বানে ভাসিয়েছে রাতের শরীর
কোন মধু খোঁজে নদী ছুটে ছুটে মোহনার ফুলে
কীসের জিকির করে স্রোতস্বিনী যেন মুসাফির

বাতাসের কালি নিয়ে কালের কলমে লেখা কার
যেন এক অভিনব কাব্য ছন্দে তারার নূপুর
প্রাচীন ভুলের দোষে আমাদের পিতা ও মাতার
আমরা চেতনা খুঁড়ে খুঁজি অবচেতনার নূর




যতবার কবিতা লিখতে যাই

আমি যতবার কবিতা লিখতে যাই
ততবার রুহের মন্দির থেকে নৈঃশব্দের স্তোত্রপাঠ শুনি
শব্দের অরণ্যে জ্বলে দাউ দাউ অলীক আঁধার
কবরের নীরবতা যেন এই বোধের বাঁধুনি
রহস্যের তাঁত বুনে পরা যত পোশাকি কবির
বিকৃত বিমূর্ত কাব্য, কাব্য নয় শেয়ালের হাসি
সরল কবির বুকে ঢেলে দেয় ব্যাথ্যার তিমির
লোকসমাজের বুকে ভুমিহীন কবিতার চাষী
আমাকে বিমূর্ত করে কাহ্নপার সুপ্রাচীন হাসি
জীবনের নকসা তুলে আঁচলে চর্যাপদ নদীর আঁচলে
উড়ে গেছে সেই সব শব্দবিদ বিহঙ্গ সন্ন্যাসী
কবিতার ছায়াপথে আলো আঁধারীর ডানা মেলে
পবিত্র কলম আর অনৈসর্গিক বোধের শপথ
নক্ষত্রের কালি দিয়ে এঁকে দেব কবিতার রথ