সাগরে নিম্নচাপ, তাপপ্রবাহ কমার আভাস

আপডেট: 07:40:31 26/04/2019



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : তিনদিন ধরে চলা তাপপ্রবাহ যখন প্রশমিত হতে শুরু করেছে, তখনই সাগরে জল-হাওয়ার ঘূর্ণিতে ঝড়ের জন্মের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ খোন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হওয়ার পর শুক্রবার তা নিম্নচাপের আকার নিয়েছে। এটি আরো ঘণীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং শনিবার ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে।
নিম্নচাপটির সম্ভাব্য গতিপথ এখন ভারতের ওড়িশা উপকূলের দিকে। তবে সাগর উত্তাল থাকায় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
টানা তিনদিন ধরে তাপপ্রবাহ চলছে দেশের সর্বত্র। শুক্রবার রাঙ্গামাটিতে দেশের সর্বোচ্চ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলের পর দেশের অনেক এলাকায় তাপপ্রবাহ কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে ঢাকা, মাদারীপুর, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, ফেনী, রাজশাহী, যশোর, বাগেরহাট, পটুয়াখালী জেলাসহ সিলেট বিভাগের প্রতিটি জেলায় এখনো মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
থার্মোমিটারের পারদ চড়তে চড়তে যদি ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে, আবহাওয়াবিদরা তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলেন। আর উষ্ণতা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেলে তাকে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টি শুক্রবার বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে দুই হাজার ১৭০ কিলেমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে দুই হাজার ৮৫ কিলেমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে দুই হাজার ১৮৫ কিলেমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে দুই হাজার ১৩৫ কিলেমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল থাকায় এবং ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- কুমিল্লা অঞ্চলসহ রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও ঢাকা বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃষ্টির সঙ্গে বাতাসের উত্তাপ আরো কমে আসতে পারে। শুক্রবার বগুড়ায় ১ মিলিমিটার ও বৃহস্পতিবার তেঁতুলিয়ায় ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

মে মাসেও তাপপ্রবাহ ও ঝড়ের শঙ্কা
আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মে মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি বা দুটি নিম্নচাপের সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি পেতে পারে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ।
আগামী মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ২-৩ দিন মাঝারি/তীব্র কালবৈশাখি এবং দেশের অন্যত্র ৩-৪ দিন মাঝারি মাত্রার কালবৈশাখি হতে পারে।
মে মাসেও একটি বা দুটি তীব্র এবং দুই থেকে তিনটি মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সূত্র : বিডিনিউজ