সাতক্ষীরায় উৎপাদন কম, আলু আসছে উত্তর থেকে

আপডেট: 02:40:08 05/04/2018



img
img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরায় চাহিদার তুলনায় আলুর উৎপাদন খুব কম। অন্যদিকে চালের দাম বেশি হওয়ায় আলুর চাহিদা বেড়েছে। সারা বছরই আলুর দাম কম থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষ আলুর ব্যবহার বেড়েছে। তাই সারা বছরই বাইরে থেকে এ জেলাতে আলু সরবরাহ করতে হয়।
২২ লাখ মানুষের বসবাসরত জেলাটিতে আলুর কত চাহিদা রয়েছে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। এরই মধ্যে প্রতি দিন উত্তরাঞ্চল থেকে আসা ১৪ থেকে ১৫ ট্রাক আলু পাইকারি বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।
ডাক্তারদের মতে, একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক আলুর চাহিদা ১৮০ গ্রাম থেকে ২০০ গ্রাম। সেই হিসেবে প্রতিদিন সাতক্ষীরা জেলায় আলুর চাহিদা ৪০০ মেট্রিক টন। এক মাসে ১২ হাজার মেট্রিক টন হলে বছরে তা দাঁড়ায় তিন লাখ ৬০ হাজার টন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় চলতি বছরে আলুর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৮৫৩ টন। সেই হিসেবে এবছর এ জেলায় আলুর ঘাটতি থাকবে দুই লাখ ৮৯ হাজার ১৪৭ টন। ঘাটতি মেটাতে আলু আমদানি করতে হবে।
জেলাব্যাপী চলছে আলু উঠানোর মৌসুম। যে কারণে বাজারে আলুর দাম তুলনামূলক অনেক কম। আট থেকে দশ টাকা কেজি দরে খুচরা থেকে পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রতিদিন সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড়বাজারে উত্তরাঞ্চল থেকে ৩-৪ ট্রাক করে আলু আসছে। যার সবটাই সদরের খুচরা বিক্রেতারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
বড়বাজারের কয়েকজন পাইকারি আলু ব্যবসায়ির সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, উত্তরাঞ্চলে এবছর প্রচুর আলু উৎপাদন হয়েছে। জয়পুরহাট, বগুড়া ও রাজশাহী থেকে প্রতিদিন ৩-৪ টাকা দরের আলু আসছে সাতক্ষীরা বড়বাজারে। প্রতিট্রাকে আলু আসে ২০ টনের মতো। প্রতি দিন গড়ে তিন ট্রাক ধরা হলে সদরে আলু আসে দৈনিক ৬০ টন।
এসকে ভান্ডার, বিসমিল্লাহ ভান্ডার, শামিম এন্টারপ্রাইজ ও গাজি ভান্ডার উত্তরাঞ্চল থেকে আলু এনে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের হিসেব মতে, প্রতিদিন কমপক্ষে, সদরে ৬০ টন, কলারোয়ায় ৪৫ টন, তালায় ৪৫ টন, দেবহাটায় ৩৫ টন, আশাশুনিতে ৩৫ টন, কালিগঞ্জে ৫০ টন এবং শ্যামনগরে ৫০ টন আলু বাইরে থেকে আসে। সেই হিসেবে প্রতিদিন সাতক্ষীরায় আলু আসে ৩২০ টন। মাসে গড়ে দাঁড়ায় ৯৬ হাজার টন।
জেলায় আলুর মোট চাহিদা তিন লাখ ৬০ হাজার টেন। অন্যদিকে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৮৫৩ টন। ফলে ঘাটতি থাকবে দুই লাখ ৮৯ হাজার ১৪৭ টন। ঘাটতির সবটাই আমদানি করতে হবে। তবে বর্তমানে যে হারে আলু আসছে, তাতে এক লাখ ১৫ হাজার ২০০ টন ঘাটতির চাহিদা মেটাবে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এর পর আলুর চাহিদা বাড়লে আমদানি বাড়াতে হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে সদরে আলুর আবাদ হয়েছে ৭১০ হেক্টর জমিতে; যা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ১৭ টন। তবে বেসরকারি হিসাব মতে, আবাদ হয়েছে এর চেয়ে অনেক কম।
তালার খলিষখালীর মঙ্গলানন্দকাটী গ্রামের মোহাম্মদ বিশ্বাস বলেন, ‘এক সময় ২-৩ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করতাম। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় এখন আর আলুর চাষ করি না।’
বাগমারা গ্রামের আব্দুল আহাদ বলেন, ‘আগে কয়েক বিঘা জমিতে আলুর চাষ করতাম। এখন কয়েক কাঠা জমিতে নিজে খাওয়ার জন্য আলুর চাষ করি।’
খলিষখালী, মাগুরা, তালা, ইসলামকাটি, কুমিরা, সরুলিয়া, নগরঘাটা, ধানদিয়া অঞ্চলে কয়েকজন আলু চাষির সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, আগে এসব অঞ্চলে প্রচুর আলুর চাষ হতো। বর্তমানে হয় না। একই অবস্থা জেলার প্রায় সর্বত্র।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘সাতক্ষীরার মাটি আলু চাষের জন্য খুব সহায়ক। আমরা আলু চাষিদের বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করি। আশা করি, আগামীতে এখানে আলুর উৎপাদন বাড়বে।’

আরও পড়ুন