সাতক্ষীরায় ভেস্তে গেল মধ্যরাতের মৎস্যবিলাস

আপডেট: 07:42:45 14/09/2018



img

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় শিকারীদের প্রতিবাদ ও হই চইয়ের মুখে শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেল মধ্যরাতের মৎস্যবিলাস।
সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ছিপ ও মাছ ধরার সব সরঞ্জাম গুটিয়ে নিয়ে বিষণ্ন বদনে ফিরে যান। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
তবে সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি বলেন, আজ-কালই পৌর দীঘিতে শৌখিন মাছ শিকার ফের শুরু হবে। এরই মধ্যে বিষয়টির সম্মানজনক নিষ্পত্তিও হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারো সাতক্ষীরা শহরের পৌর দীঘিতে মাছ ধরার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ টিকিট দেয়। তবে এবারের সব টিকিট সিন্ডিকেট করে সাতক্ষীরার পরিদর্শক মর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তা কিনে নেন। পরে তিনিই বিভিন্ন দামে বিক্রি করেন টিকিটগুলো। শুক্রবার ভোরে লটারির মাধ্যমে মাছ শিকার উৎসবের সব আয়োজনও শেষ করা হয়। শিকারীরা তাদের মতো করে দীঘির চারধারে মাছ ধরার মঞ্চ তৈরি করেন। তবে এবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি না দেওয়ায় শিকারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। মাছ ধরার মাইকিং করার আগেই সব টিকিট সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ।
এদিকে শৌখিন শিকারীদের মধ্যে সাতক্ষীরা বিচার বিভাগের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তা পৌর দীঘিতে মাছ ধরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে তাদের সহযোগিতাও করেন। তবে গোলতাল বেঁধে যায় মাছ শিকারের সময় নিয়ে। তারা চান বৃহস্পতিবার রাতে মাছ ধরতে। অন্যরা বলেন, মাছ ধরা শুরু হবে শুক্রবার কাকডাকা ভোরে।
সূত্র জানায়, বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা সঙ্গত কারণে অন্য কারো সঙ্গে মাছ ধরতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার রাতে কর্তৃপক্ষের সহায়তায় পৌর দীঘিতে মাছ ধরতে মঞ্চে বসে যান। গভির রাত পর্যন্ত মাছ শিকার শেষে তাদের ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শুরু হয়ে যায় তুমুল হই হট্টগোল। টিকিটধারী অন্য শিকারীরা আপত্তি তোলেন। তারা বলেন, রাতে ছিপ-বড়শি ও মশলা ফেললে এর ঘ্রাণে সব মাছ সেদিকে চলে যেতে পারে। ফলে সকালে মাছ শিকার ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। এ নিয়ে মধ্যরাতে শুরু হয় হই চই। শিকারিরা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অশোভন বাক্য ছুড়ে দিতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত কর্মকর্তারা তাদের ছিপ-বড়শি গুটিয়ে ফিরে যান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি বলেন, ‘রাতে মাছ ধরতে বসায় কয়েকজন শিকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে সম্মানহানিকর কথাবার্তা বলেছেন। এ জন্য তারা মাছ না ধরেই ফিরে গেছেন।’
এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, ‘বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অচিরেই মাছ ধরা উৎসব শুরু হবে।’

আরও পড়ুন