সাতক্ষীরা ছাত্রলীগ ঘৃণার পাত্র, অভিযোগ নেতার

আপডেট: 02:20:25 20/03/2019



img

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমানসহ দুইজনের নামে সদর থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এজাহারকারী সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সুলতানপুর বড় বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি মো. আমিনুর রহমান।
এঘটনায় ব্যবসায়ীরা মঙ্গলবার রাতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ঘটনার মামলা গ্রহণ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবি করেন।
আমিনুর রহমান তার এজাহারে ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে উল্লেখ করেছেন, ‘ছাত্রলীগ নামধারী ও পদ-পদবি ব্যবহারের মাধ্যমে চাঁদাবাজি, মাস্তানি, জমিজমা জবরদখল ও লুটতরাজসহ নতুন নতুন কমিটি গঠনের বিনিময়ে অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জনকারী সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের কলঙ্ক হিসেবে স্বল্প সময়ে জেলা শহরে ঘৃণার পাত্রসহ ব্যাপক কুখ্যাতি অর্জনকারী।’
এজাহারে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে যমুনা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বড়বাজার যাওয়ার সময় জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারী সাদিক নি মেজেরাবাইল থেকে জরুরি কথা বলার নাম করে তাকে পশু হাসপাতালে ডেকে নিয়ে আসেন। এসময় সাদিক তাকে বলেন, ‘আপনি বড়বাজারে ভালো ব্যবসা করেন। অথচ আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখেন না। কোনো টাকা-পয়সা দেন না। তাই সবাই মিলে আপনার কাছে পাঁচ লাখ টাকা ধার্য করেছি। আজকে যা পারেন দেন। বাকিটা কাল সাইফুলের (দুই নম্বর আসামি) কাছে দেবেন।’
এসময় আমিনুর রহমান বলেন, ‘আমি বৈধভাবে ব্যবসা করি এবং নিজেও আওয়ামী লীগের একজন পদধারী ব্যক্তি। সুতরাং কোনো চাঁদা দিতে পারবো না। আর এভাবে চাঁদাবাজি করে দলের ভাবমূর্তির ক্ষতি করবে না।’
একথা বলার সঙ্গে সঙ্গে ওই দুইজন তার সঙ্গে তুইতামারি করা শুরু করে এবং কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে মারপিট করে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। আসামিরা আমিনুর রহমানের ব্যাংক থেকে উঠানো দুই লাখ টাকা কেড়ে নেয় এবং আরো তিন লাখ টাকা পরদিনের মধ্যে দিতে বলে। আসামিরা আরো বলে, ‘এ নিয়ে থানা, কোর্ট-কাছারি করলে তোর গুষ্ঠিশুদ্ধ শেষ করে দেবো। এসপি-ওসির কাছে মামলা করে লাভ হবে না। কারণ আমার চাচা এমপি আর আমিও বড় নেতা।’
এক পর্যায়ে বাদীর চিৎকারে পথচারী এবং পুলিশ আসে। তারা বাদীকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান।
এব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এজাহার পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিক বলছেন, ‘আমি কারোর কাছ থেকে চাঁদ নেইনি। আমিনুর যে অভিযোগ দিয়েছে, সেটি মিথ্য। সে একজন মাদক ব্যবসায়ী।’
এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে সাতক্ষীরা শহরে ‘মাদককে না বলুন, সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ুন’ এই স্লোগানে সন্ত্রাস ও মাদক বিরোধী বিক্ষোভ ও পথসভা করে জেলা ছাত্রলীগ। সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজাসহ অন্যরা। এসময় সাতক্ষীরার ‘মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাচালানি’ বড়বাজারের আমিনুর ও তার ছোটভাই মতিনুরের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।

আরও পড়ুন