সাধু-ফকিরদের পদচারণা আখড়াবাড়িতে

আপডেট: 01:26:37 20/03/2019



img
img

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : সন্ধ্যায় শুরু হচ্ছে তিনদিনের লালন স্মরণোৎসব। আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে এই আসর বসছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহীর এ লালন স্মরণোৎসব উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। তবে এর আগেই একতারা-দোতারা আর ঢোল-বাঁশির সুরে ও আধ্যাত্মিক গানে তন্ময় হয়ে উঠেছে লালন আখড়াবাড়ি।
বাউলদের খাঁটি করে গড়ে তুলতে ফকির লালন সাঁই তার জীবদ্দশায় ছেঁউড়িয়ার এই আখড়াবাড়িতে প্রতি বছর চৈত্র মাসে দোলপূর্ণিমার রাতে সাধুসঙ্গ করতেন। ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পয়লা কার্তিক তার মৃত্যুর পরও এ উৎসব চালিয়ে আসছেন অনুসারীরা।
প্রতিবারের মতো এবারো প্রখ্যাত এই আধ্যাত্মিক গুরুকে স্মরণ ও তার দর্শন পাওয়াসহ অচেনাকে চেনা, জ্ঞান সঞ্চয়, আত্মার শুদ্ধি ও মুক্তির লক্ষে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার লালন অনুসারী, ভক্ত অনুরাগী আর দর্শনার্থীরা এই আখড়াবাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন।
আখড়াবাড়ি চত্বরে কালী নদীর তীরে বিশাল মাঠে জমে উঠেছে লালনমেলা। আর আখড়াবাড়ির ভেতরে ও বাইরে লালন অনুসারী, ভক্তদের খণ্ড খণ্ড সাধু আস্তানায় গুরু-শিষ্যের মধ্যে চলছে লালনের জীবন-কর্ম নিয়ে আলোচনা। পরিবেশিত হচ্ছে লালনের গান।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন ও লালন একাডেমীর আয়োজনে তিনদিনব্যাপী এই উৎসব শেষ হবে আগামী ২২ মার্চ শুক্রবার রাতে।
ঐতিহাসিক এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মঙ্গলবার লালন আখড়াবাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লালন একাডেমীর সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন জানিয়েছেন, উৎসব চলাকালে আইন শৃঙ্খলা-বাহিনীর ছয় শতাধিক সদস্য সর্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার। আর এই আখড়াবাড়িতে লালন উৎসব দেখতে আসা বিদেশী পর্যটকদের জন্য নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।