সান্টা ক্লজ শহর

আপডেট: 03:04:25 24/12/2017



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : লাল টুসটুসে তার গাল আর ধবধবে সাদা লম্বা দাড়ি। পরনে পা থেকে মাথা পর্যন্ত লাল রঙের স্যুট। বিশাল বপু জুড়ে কালো রঙের বেল্ট। ক্রিসমাসের মৌসুম এলেই পশ্চিমা বিশ্বে স্যান্টা ক্লজের এমন প্রতিকৃতি দেখা যায় প্রায় সবখানে।
পশ্চিমা লোক-কাহিনিতে ক্রিসমাসে স্যান্টা ক্লজ সবার জন্য উপহার নিয়ে আসেন। কিন্তু আমেরিকার ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে রয়েছে এমন এক শহর যার নাম 'সান্টা ক্লজ টাউন'। সেখানে বছরে অন্তত ২০ হাজার চিঠি আসে সান্টা ক্লজের নামে।

কেমন সে শহর
সান্টা ক্লজ শহরে যেন সারা বছরই ক্রিসমাস। শহরের সীমানা যেখানে শুরু সেখানে সান্টা ক্লজের বিশাল আকারের একটি ভাস্কর্য। একই রকম ভাস্কর্য রয়েছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে।
এখানকার মূল রাস্তার নাম ক্রিসমাস বুলোভার্ড। ক্রিসমাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা লোক-কাহিনিতে যেসব চরিত্র রয়েছে সেগুলোর নামে রয়েছে শহরের আরো অনেক কিছু। যেমন রুডল্ফ লেন, ক্রিসমাস লেক।
শহরের সান্টা ক্লজ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা প্যাট কুক বলছেন সান্টা ক্লজের নামে শহরটিতে প্রতি বছর হাজার হাজার চিঠি আসে। প্রেরকের কাছে সেগুলোর উত্তরও পৌঁছে যায়।
নভেম্বর মাসের শেষ নাগাদ প্যাট কুক ও তার শ'দুয়েক স্বেচ্ছাসেবী এসব চিঠির জবাব দেন।
পশ্চিমা লোক-কাহিনিতে ক্রিসমাসে সান্টা ক্লজ সবার জন্য উপহার নিয়ে আসেন, বিশেষ করে শিশুদের জন্য। সেই উপহার পেতে হলে সারাবছর দুষ্টুমি থেকে দূরে থাকতে হবে।
"যেমন ধরুন সারা বছর ভালো হয়ে চলার জন্য আমরা ধন্যবাদ দিই। স্কুলে ভালো করে পড়াশোনা করার জন্য, অথবা ভাইবোনের সঙ্গে ঝগড়া না করার উপদেশ দিই। ছোট শিশুদের যেসব উপদেশ বাণী দেওয়া হয়, সেগুলো আর কী। ওদেরকে একটু জানানো যে সান্টা তাদের চিঠিটি পড়েছেন," বলছেন প্যাট কুক ।
চিঠির উত্তর লেখার দায়িত্ব যেমন স্বেচ্ছাসেবীরাই নিয়ে থাকেন, তেমনি এর খরচও চলে মূলত দানের অর্থে। শহরের বাসিন্দা মোটে দুই হাজার। কিন্তু শহরটিতে বছরজুড়ে বেড়াতে আসেন অনেক লোক। ছয়ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে মিসিসিপি থেকে এসেছেন আর্মস্ট্রং পরিবার।
"ক্রিসমাসে কোথায় বেড়াতে যাওয়া যায় সে নিয়ে আমরা গবেষণা করছিলাম। আমরা ক্রিসমাসে কোথাও না কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করি। ফেসবুকে হঠাৎ একটা আর্টিকেল দেখলাম, যেখানে লেখা ছিল পরিবার নিয়ে ক্রিসমাসে বেড়াতে যাওয়ার সেরা দশটি জায়গা কোনগুলো। এভাবেই বুদ্ধিটা পেলাম। ওই লিস্টে যে স্থানগুলোর নাম ছিল তার মধ্যে এই শহরটিই আমাদের সবচেয়ে কাছে"।

কীভাবে নাম হলো সান্টা ক্লজ শহরের
১৮৫৫ সাল পর্যন্ত শহরটির নাম ছিল 'সান্টা ফি'। সেসময় শহরটিতে একটি নতুন পোস্ট অফিস চালু করতে গিয়ে জানা গেল আরো এক শহরের নাম সান্টা ফে। চিঠি পাওয়ার ঝামেলা এড়ানোর জন্য তখন নাম না বদলের আর উপায় ছিল না।
তবে শহরের বাসিন্দারা সান্টা ক্লজ নামটি ঠিক কীভাবে বেছে নিলেন, সেই গল্পের কতটুকু বাস্তব আর কতটুক আসলেই গল্প- সেটি এতোদিন পর নিশ্চিত জানা যায় না। এখানে আসা বহু চিঠির খামে শুধু সান্টা ক্লজের নামটাই লেখা থাকে।
সূত্র : বিবিসি