সাড়ে তিন কোটি টাকা ফেরত গেছে ঝিনাইদহ সওজের

আপডেট: 08:37:18 10/07/2017



img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের সাড়ে তিন কোটি টাকা ফেরত গেছে। অথচ এই জেলার সড়ক-মহাসড়ক খানা-খন্দকে ভরা।
টাকা ফেরত যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন সওজ খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
কৈফিয়ত তলবের চিঠিতে সরকারের উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত ও দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতা ও অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সওজ খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমীন তার দপ্তরের ই-৯/০১/২ নম্বর স্মারকে উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ ব্যয় নিশ্চিত না হওয়ায় কৈফিয়ৎ তলব করে চিঠি দেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা-মুজিবনগর-মেহেরপুর সড়ক উন্নয়নে মূল এডিপিতে ৩০ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এরপর ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগ প্রথম কিস্তি হিসেবে সাড়ে সাত কোটি টাকা ছাড় করার প্রস্তাব পাঠায় মন্ত্রণালয়ে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ওই টাকা ছাড় করায়। কিন্তু কাজে অযথা সময়ক্ষেপণের কারণে বরাদ্দ টাকা খরচে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। ফলে ছাড় করা টাকা আরএডিপিতে সমর্পণের প্রস্তাব করা হয়। সে হিসেবে আরএডিপিতে টাকা বরাদ্দ চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আরএডিপিতে প্রাপ্ত বরাদ্দ অনুযায়ী সাড়ে ১২ কোটি টাকা ১৮ মে ২০১৭ তারিখে ছাড়ের জন্য প্রস্তাব পাঠালে তা অনুমোদন করা হয়। চিঠিতে ছাড় করা টাকা খরচে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা থাকলে তা প্রকল্প ব্যবস্থাপককে অবহিত করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম আজাদ খান যথাসময়ে চলমান কাজের অগ্রগতি বা টাকা খরচের কোনো ধারণা দেননি। ফলে কাজ না এগোনোয় বাদবাকি টাকা গেল অর্থবছরের ৩০ জুনের মধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, তছলীমা ক্লিনিকের সামনে, কেসি কলেজ সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। অথচ নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম আজাদ খান রক্ষণাবেক্ষণ খাতের পৌন নয় লাখ টাকাও ফেরত দিয়েছেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমীন টাকা ফেরত যাওয়ার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমি গত ২ জুলাই ঝিনাইদহ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম আজাদ খানকে চিঠি দিয়েছি। পাঁচ দিনের মধ্যে তাকে উত্তর দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আমি ছুটিতে থাকায় তিনি উত্তর দিয়েছেন কি-না তা আমি এথনো দেখতে পারিনি।’
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগে রাস্তা নির্মাণ-সংস্কারের নামে হরিলুট হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সোমবার ঝিনাইদহ সওজ অফিসে গিয়ে পদস্থ কাউকে পাওয়া যায়নি। নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম আজাদ খান, আমজাদ হোসেন ও মনিরুল ইসলামসহ কর্মকর্তাদের ফোন নাম্বারও বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন