সিনহার কারণেই সু্প্রিম কোর্টের বিবৃতি : ওয়াহহাব

আপডেট: 01:11:53 17/10/2017



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেছেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার বিবৃতির কারণেই সুপ্রিম কোর্টকে বিবৃতি দিতে হয়েছে।
সোমবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত ফুল কোর্ট সভায় হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতিদের এ কথা বলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। সভা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা অংশ নেন। সভার শুরুতে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য হিসেবে গত শনিবার দেওয়া বিবৃতির প্রেক্ষাপট অবহিত করেন। এ সময় তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিবৃতির কারণেই সুপ্রিম কোর্টকে বিবৃতি দিতে হয়েছে।
গত শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার প্রাক্কালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা কাগজে লেখা একটি বিবৃতি সাংবাদিকদের দেন। এতে তিনি বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি, কিন্তু ইদানীং একটি রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী ও বিশেষভাবে সরকারের মাননীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন, এতে আমি সত্যিই বিব্রত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকারের একটা মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে পরিবেশন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন, যা অচিরেই দূরীভূত হবে বলে আমার বিশ্বাস। সেই সঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আমি একটু শঙ্কিতও বটে। কারণ গতকাল প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবীণতম বিচারপতির উদ্ধৃতি দিয়ে মাননীয় আইনমন্ত্রী প্রকাশ করেছেন যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অচিরেই সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনে পরিবর্তন আনবেন। প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো রেওয়াজ নেই। তিনি শুধু রুটিন মাফিক দৈনন্দিন কাজ করবেন। এটিই হয়ে আসছে। প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করলে এটি সহজেই অনুমেয় যে, সরকার উচ্চ আদালতে হস্তক্ষেপ করছে এবং এর দ্বারা বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্কের আরো অবনতি হবে। এটি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।’
সেদিন রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
এর পরের দিন অর্থাৎ শনিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া হয়। এতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, অর্থপাচারসহ ১১টি অভিযোগ পাওয়ার কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ছাড়া আপিল বিভাগের অন্য পাঁচ বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাসভবন বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানান। বিচারপতি ইমান আলী বিদেশে থাকায় অন্য চার বিচারপতি বঙ্গভবনে যান। তারা হলেন বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। সাক্ষাৎকালে এস কে সিনহার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনসহ ১১টি অভিযোগের দালিলিক তথ্যাদি চার বিচারপতির কাছে হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রপতি।
সূত্র : এনটিভি