সীমান্তে মিয়ানমারের স্থলমাইন, নিশ্চিত অ্যামনেস্টি

আপডেট: 03:59:34 09/09/2017



img
img
img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী স্থলবোমা বা ল্যান্ডমাইন পেতে রাখার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
তারা বলেছে, এভাবে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ স্থলবোমা পেতে রেখে রাখাইনের হাজার হাজার মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। পলায়নরত রোহিঙ্গাদের অনেকে এতে মারা যাচ্ছেন। শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। একজন নিহত হয়েছেন।
৯ সেপ্টেম্বর অম্যানেস্টির ওয়েবসাইটে পোস্ট করা এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।
এতে বলা হয়, অ্যামনেস্টি নিশ্চিত হয়েছে যে, বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মানববিরোধী আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ স্থলবোমা পেতে রেখেছে মিয়ামনারের সেনাবাহিনী। এতে দুটি শিশুসহ কমপক্ষে তিনজন মারাত্মক আহত হয়েছে। নিহত হয়েছেন কমপক্ষে একজন।
এতে বলা হয়, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার ও অস্ত্রবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে অ্যামনেস্টি এ বিষয়টি প্রামাণ্য আকারে দেখতে পেয়েছে।
তাতে বলা হয়েছে, রাখাইন থেকে সংকীর্ণ পথে এসব স্থলবোমা পেতে রাখা হয়েছে। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, গত প্রায় ১৫ দিনে কমপক্ষে দুই লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে রয়েছেন বর্তমানে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ক্রাইসিস রেসপন্স ডিরেক্টর তিরানা হাসান।
তিনি বলেছেন, রাখাইনে ভয়াবহ এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পালানোর পথে ভয়ঙ্কর অস্ত্র পুঁতে রেখেছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবন অকল্পনীয় ঝুঁকিতে রয়েছে। উত্তর কোরিয়া, সিরিয়ার মতো বিশ্বের অল্প কিছু দেশের মতো মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কাছে এই স্থলবোমা রয়েছে। পলায়নরত মানুষ অথবা যারা এরই মধ্যে পালিয়ে গেছেন তাদের বিরুদ্ধে এমন অমানবিক চর্চা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত কর্তৃপক্ষের। বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন রাখাইনের তাউং পাইও ওয়াল এলাকায় বেশ কিছু স্থলবোমা পাওয়া গেছে। এ এলাকা থেকে অনেক মানুষ পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। বহু মানুষ এই সীমান্ত দিয়ে আসা যাওয়া করেন। এখান দিয়ে অনেক জিনিস আদান প্রদান হয়। ৩ সেপ্টেম্বর ৫০ বছর উত্তীর্ণ একজন নারী বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে তাউং পাইও লেট ওয়াল অতিক্রম করেন। যাওয়ার পথে তিনি পুঁতে রাখা একটি স্থল বোমার ওপর পা রাখেন। এতে তার হাঁটু থেকে পা উড়ে যায়। তাকে বাংলাদেশের এক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তার এক নিকট আত্মীয় কলমা (২০) অ্যামনেস্টিকে বলেছেন, 'গোসলের জন্য পানি আনতে আমার শাশুড়ি আমাদের গ্রামে গিয়েছিলেন। এর কয়েক মিনিট পরেই বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। আমি শুনতে পাই কেউ একজন স্থলবোমার ওপর পা রেখেছেন। পরে জানতে পারি তিনি আমার শাশুড়ি।'
বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, তারা দেখতে পেয়েছেন মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সীমান্ত প্রহরীরা মিয়ানমার সীমান্তে  স্থলবোমা পেতে রাখতে দেখতে পেয়েছেন। বিস্ফোরণের পরে পা উড়ে যাওয়া ওই নারীর মোবাইলে তোলা ছবির সত্যতা যাচাই করতে পেরেছে অ্যামনেস্টি। এতে বোঝা যায়, এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে শক্তিশালী কোনো ডিভাইস দিয়ে, যা মাটির নিচে পেতে রাখা হয়েছে স্থলবোমার সঙ্গে।
অন্য গ্রামবাসী একই এলাকায় আরো স্থল বোমা দেখতে পেয়েছে। অ্যামনেস্টিও এর যথার্থতা খুঁজে পেয়েছে। এ সপ্তাহে সীমান্ত অতিক্রমণের পথে সন্দেহজনক চারটি বিস্ফোরণ ঘটেছে।
সীমান্ত অতিক্রমের ওই পথের কাছেই আত্মগোপন করে ছিলেন এমন একজন রোহিঙ্গা পুরুষ বলেছেন, তিনি ও অন্যরা ওই একই এলাকায় কমপক্ষে ছয়টি স্থলবোমা দেখতে পেয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এর দুটি তারা উপড়ে ফেলে দিয়েছেন অন্যদের রক্ষা করতে। কমপক্ষে একটি স্থলবোমা দেখে মনে হচ্ছে সেটি পিএমএন-১ গোত্রের।
এ বছর জুনে মিয়ানমারের সেনবাহিনী, কাচিন ও শান রাজ্যের সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে লড়াইয়ে যে স্থলবোমা ব্যবহার করা হয়েছে, তা ডকুমেন্ট হিসেবে তুলে ধরে অ্যামনেস্টি।
ওদিকে অস্ট্রেলিয়া সরকার মিয়ানমারের সেনাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। অস্ত্র সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া ও ইসরাইল, যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এ বিষয়ে।
সূত্র : মানবজমিন

আরও পড়ুন