সুন্দরবনে আগুন 'পরিকল্পিত'

আপডেট: 09:49:34 16/04/2016



img

মংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের নাংলী ক্যাম্প এলাকায় পরিকল্পিতভাবেই আগুন দেওয়া হয়েছিল বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত এমন ছয়জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রোববার মামলা হবে। ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বাদী হয়ে বন আইনে মামলাটি করবেন।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেছেন, গত ১৪ বছরে ২০ বার ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও এই প্রথম বন বিভাগ অপরাধীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে আগুনের ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্যের কমিটির প্রধান হিসেবে আছেন সহকারী বন সংরক্ষক বেলায়েত হোসেন। তাকে নিয়েও নানা কথা আছে স্থানীয়দের মধ্যে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে নাংলী ক্যাম্প-সংলগ্ন বনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বন বিভাগ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট স্থানীয়দের সহায়তায় বৃহস্পতিবার রাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আগুনে সুন্দরবনের আট দশমিক ৫৫ একর বনাঞ্চল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আরো ৬৬ একর বনাঞ্চলসহ জীববৈচিত্র্যের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির জিপিএস ডিভাইসের মাধ্যমে সুন্দরবন বিভাগ পুড়ে যাওয়া বনাঞ্চলের এই হিসেব বের করেছে।
এ ঘটনার মাত্র ১৭ দিন আগে নাংলী ক্যাম্প এলাকায় আরেকটি আগুনের ঘটনায় পুড়ে যায় প্রায় দেড় একর বনভূমি।
বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরার সুবিধার্থেই পরিকল্পিতভাবে সুন্দরবনে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের ভোলা নদীর পাড়ের শাহজাহান শিকারী জড়িত বলে জানিয়েছে বন বিভাগের একটি সূত্র। মামলায় শাহজাহানকেও আসামি করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকটি অসাধু মৎস্য শিকারিচক্র প্রতিবছর বনে আগুন লাগিয়ে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে তারা আগুন লাগিয়ে বন পরিষ্কার করে মাছের বিল তৈরি করে। বর্ষা এলেই শুরু হয় ওই চক্রের মাছ ধরার উৎসব। বন কর্মকর্তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওই চক্রের কাছে এসব বিল মৌসুমভিত্তিক অলিখিত ইজারা (লিজ) দেয়। সেখানে কারেন্টসহ বিভিন্ন ধরনের জাল পেতে মাছ শিকার করা হয়। প্রতি মৌসুমে লাখ লাখ টাকা আয় হলেও সরকারের ঘরে একটি টাকাও আসে না।
নাংলী ক্যাম্পসংলগ্ন আবদুল্লার ছিলার বনে আগুনের ঘটনাটি তারই অংশ বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
(এএইচ/একে/১৬.০৪.১৬)

আরও পড়ুন