সুন্দরবনে এখনো ধোঁয়া, বনজীবীদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা

আপডেট: 02:30:35 29/04/2016



img

বাগেরহাট প্রতিনিধি : সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জেও বনজীবীদের সব ধরনের পাস-পারমিট দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বন বিভাগ। বনে দফায় দফায় আগুন লাগার কারণে চাঁদপাইয়ের পর নতুন করে আরও নতুন এলাকায় পারমিট বন্ধ করলো সরকারের পক্ষে বন সংরক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত বিভাগটি।
এদিকে, বন কর্মকর্তারা তুলাতলা এলাকার জঙ্গলে দুদিন আগে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার কথা বা হলও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা শুক্রবার দুপুরেও বিভিন্ন অংশ থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার খবর জানিয়েছেন।
ফায়ার ফাইটাররা বলছেন, “তীব্র বাতাসের কারণে আগুন নেভানোর কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় এখনও ধোঁয়া দেখতে পাচ্ছি। আমরা পানি ছিটিয়ে যাচ্ছি।”
যে জেলে, মৌয়ালী বা বাওয়ালীরা পাস-পারমিট নিয়ে এখনও ওই এলাকায় অবস্থান করছেন, তাদের দ্রুত বন থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
বনবিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মো. জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাববার আগুন লাগার কারণেই তাদের এ সিদ্ধান্ত।
“এখনও যারা পাস-পারমিট নিয়ে পূর্ব বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে অবস্থান করছেন, তাদের দ্রুত বের হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
তবে বাইরে থেকে আসা পর্যটকরা সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন বলে বন বিভাগের এ কর্মকর্তা জানান।
বুধবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের ২৫ নম্বর কম্পার্টমেন্টের তুলাতলা এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। গত এক মাসে ওই এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের চতুর্থ ঘটনা এটি। আর ১৪ বছরে ২২ বার এ ধরনের আগুনের ঘটনা ঘটেছে বলে শুক্রবার খুলনায় আয়োজিত এক সভায় লিখিত বক্তব্যে বলা হয়।
এরপর বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঁদপাই রেঞ্জে ‘বিশেষ সতর্কতা’ জারি করে সেখানে জেলে, মৌয়ালী, বাওয়ালী বা সাধারণ মানুষের চলাচল সংরক্ষিত করে বনবিভাগ।
সেইসঙ্গে ঘনঘন আগুন লাগার কারণ উদঘাটনে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (আইন) মো. মোজাহেদ হোসেনকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিকে দশ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বন সংরক্ষক জহির উদ্দিন বলেন, “দুর্বৃত্তদের দেওয়া এবারের আগুনের ধরন একটু ভিন্ন। তারা তুলাতলা এলাকার কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ২০টি স্থানে আগুন দিয়েছে, যা শনাক্ত করে নেভাতে সময় লেগেছে।”
তিনি বলেন, এখনই ফায়ার সার্ভিসকে সুন্দরবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে না। বনবিভাগের সঙ্গে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।
বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক মানিকুজ্জামান বলেন, বুধবার সন্ধ্যা থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ওই এলাকায় কাজ করছিল। শুক্রবার সকালে খুলনা ফায়ার সার্ভিসের ১২ জনের একটি দল তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে।
(বিডিএন/একে/২৯.০৪.১৬)

আরও পড়ুন