সুলতান উৎসবে জমজমাট নৌকাবাইচ

আপডেট: 09:31:56 08/09/2018



img
img

নড়াইল প্রতিনিধি : বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৪তম জন্মবার্ষিক উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারো অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নারী ও পুরুষদের প্রাণআপ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।
আকর্ষণীয় এই প্রতিযোগিতা দেখতে চিত্রার দুপাড়ে হাজারো মানুষের ভিড় জমেছিল। শুধু নড়াইল নয়, পাশের জেলা ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের সমাগম ঘটে এ নৌকাবাইচ দেখতে। শুধু দেশের মানুষই উপভোগ করেনি। এই প্রতিযোগিতা দেখতে ভারত, জাপান, জার্মান, মালয়েশিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকেও এসেছিল দর্শনার্থীরা।
বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এসএম সুলতান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চিত্রা নদীতে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রথমে অংশ নেন নারী প্রতিযোগীরা। পরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শুরু হয় পুরুষদের প্রতিযোগিতা। নড়াইল পুরনো ফেরিঘাট থেকে শুরু হয়ে জমিদারদের বাধাঘাট হয়ে এসএম সুলতানের বাড়ির পাশ দিয়ে পাঁচ কিলোমিটার দূরে মাছিমদিয়া এস এম সুলতান চিত্রা ব্রিজে গিয়ে শেষ হয়।
দর্শকরা জানান, নৌকাবাইচ তাদের ভালো লাগে। তাই প্রতিবছর দেখতে আসেন। প্রতিবছর তারা এদিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকেন।
নারী-পুরুষ ও শিশু-বৃদ্ধের আগমনে এ নৌকা বাইচ যেন পরিণত হয় মিলনমেলায়। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচ দেখতে চিত্রা নদীর দুই পাড়ে, বাড়ির ছাদে, গাছের ডালে বসে যে যেখান থেকে যেভাবে পেরেছে সেভাবেই সবাই উপভোগ করেছেন।
শিল্পী সুলতান তার চিত্রকর্মে গ্রামীণ জীবন, জনপদ ও সংস্কৃতিকে তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রতিবছর তারই জন্মবার্ষিকীতে নৌকাবাইচ আয়োজনের মাধ্যমে শিল্পীর সেইস্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা সুলতানপ্রেমী নড়াইলবাসীর।
নড়াইলের জেলা প্রশাসক মো. এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, নড়াইল জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ জসিম উদ্দিন, পৌরসভার মেয়র মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস, এসমএম সুলতান ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু, সুলতান উৎসবের আয়োজক এবং এসএম সুলতান চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ হানিফ, এসএম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব বিমানেশচন্দ্র বিশ্বাস, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আলমগীর সিদ্দিকী প্রমুখ।
প্রতিযোগিতায় পুরুষদের টালাই গ্রুপে প্রথম হয়েছে খুলনার তেরখাদা উপজেলার নয়া বারসাত গ্রামের দিদার মেম্বরের নৌকা; দ্বিতীয় হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলার গোলাম রব্বানীর নৌকা এবং তৃতীয় হয়েছে খুলনার তেরখাদা উপজেলার মাহাবুর রহমানের নৌকা।
কালাই গ্রুপে প্রথম হয়েছে মাগুরার আকরাম বিশ্বাসের নৌকা; দ্বিতীয় হয়েছে নড়াইলের তুলারামপুরের সোহেল রানার নৌকা এবং তৃতীয় হয়েছে মাগুরার বদিয়ার রহমানের নৌকা।
নারী গ্রুপে প্রথম হয়েছে নড়াইল সদর উপজেলার হাতিয়াড়া গ্রামের স্বরুপসতী, দ্বিতীয় একই এলাকার চিত্রাকলী ও তৃতীয় হয়েছে মুশুড়ী গ্রামের গানের পাখি নৌকা।
নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা শেষে শহরের রূপগঞ্জ বাঁধাঘাটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী শ্রীবীরেন শিকদার। পরে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আয়োজকরা জানান, সুলতান সবসময় গ্রামবাংলার সংস্কৃতিকে লালন করতেন। আর তার সেই আজীবনের লালিত স্বপ্নকে ধরে রাখতেই প্রতিবছর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
এর আগে বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নড়াইলের সুলতান মঞ্চ চত্বরে ছবি এঁকে উৎসব উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এমদাদুল হক চৌধুরী। আজ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে চারদিনের এ উৎসব শেষ হলো।