সুশীলনের বিরুদ্ধে কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

আপডেট: 04:47:41 06/09/2017



img

জিয়াউস সাদাত, খুলনা : খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এনজিও সুশীলনের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে।
গাজী আসাদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হয়ে ওই প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়েছেন। লিগ্যাল নোটিসে এক সপ্তাহের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিস প্রেরণকারী অ্যাডভোকেট মল্লিক আল হেলাল জানান, রূপসা উপজেলার শিরগাতী গ্রামের গাজী আসাদুল্লাহর পক্ষে গত ২৪ আগস্ট গ্যারান্টেড এক্সপ্রেস পোস্টে তিনি এ তিনি লিগ্যাল নোটিস পাঠান। যা যথাসময়ে সুশীলন কর্তৃপক্ষ রিসিভ করেছেন।
লিগ্যাল নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, সুশীলন খুলনা, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সুশীলনের দুটি জেনারেল অ্যাকাউন্ট রয়েছে। যার একটি ডাচ-বাংলা ব্যাংক খুলনা শাখায় এবং অপরটি এনসিসি ব্যাংক খুলনা শাখায়। এই অ্যাকাউন্ট দুটি সুশীলনের অপ্রদর্শিত ও অজ্ঞাত আয় দ্বারা পরিচালিত। আজ পর্যন্ত এগুলোর কোনো অডিট হয়নি। সরকারকে আয়কর দেওয়া হয়নি। ধরা পড়ার ভয়ে হিসাব দুটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিসে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৭ সাল থেকে এ দুটি ব্যাংক হিসাবের লেনদেন শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। যেখান থেকে কয়েক কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিসের অপরাংশে উল্লেখ করা হয়েছে, সুশীলনের নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা নূরুজ্জামানের বাল্যবন্ধু শাহিদুর রহমান সুশীলনে কর্মরত থাকা অবস্থায় কেয়ার বাংলাদেশের ‘ফ্রেশ প্রকল্পে’ জালিয়াতি করে ধরা পড়েন। তিনি জাল চালান ও স্ট্যাম্প তৈরি করে ৯৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকার ভ্যাট-ট্যাক্স সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি কেয়ারের অডিটে ধরা পড়ে। ওই সময় অভিযুক্ত শাহিদুর রহমানকে আইনের আওতায় না এনে তাকে মোস্তফা নূরুজ্জামানের অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত করা হয়। একই পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ভ্যাট ট্যাক্সের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে নোটিসে বলা হয়।
লিগ্যাল নোটিসের সন্তোষজনক জবাব না পেলে তার মক্কেল পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে মামলা করবেন বলে জানান খুলনা জজ কোর্টের আইনজীবী মল্লিক আল হেলাল।
এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সুশীলনপ্রধান মোস্তফা নূরুজ্জামানকে বারবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এনজিও-টির তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপ্নারানী সমাদ্দারের কাছে জানতে চাইলে তিনি সিনিয়র অ্যাডমিন অফিসার কমলেশ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
সিনিয়র অ্যাডমিন অফিসার কমলেশ বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি আমি খোঁজ-খবর নিয়ে আপনাকে জানাচ্ছি।’
এরপর থেকে তিনিও আর ফোন রিসিভ করেননি।
পরে এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য সুশীলনের ডেপুটি ডিরেক্টর মোস্তফা আক্তারুজ্জামান পল্টুর মোবাইলে বার বার ফোন করা হলে তিনিও রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন