সু চির বাড়িতে পেট্রোলবোমা হামলা

আপডেট: 06:08:19 01/02/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও ডি ফ্যাক্টো সরকারের নেতা অং সান সু চির ইয়াঙ্গুনের বাড়িতে পেট্রোলবোমা ছোড়া হয়েছে।
দেশটির সরকারের মুখপাত্র জাউ তাই বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, বৃহস্পতিবার চালানো ওই হামলার সময়ে বাড়িতে ছিলেন না সু চি। হামলায় তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও জানান তিনি। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইয়াঙ্গুনে একটি লেকের পাশেই মিয়ানমারের ডি-ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সু চির বসবাস। জান্তা সরকারের শাসনামলে সুদীর্ঘ গৃহবন্দিত্বের কালে এই বাড়িতেই ছিলেন তিনি। মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে তাই গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে ওঠে সু চির ইয়াঙ্গুনের বাড়িটি। মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জাও তাই বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ওই বাড়ি লক্ষ্য করে পেট্রোলবোমা ছুড়ে মারা হয়েছে। তবে তাতে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’
সম্প্রতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে একপেশে ভূমিকা রাখায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সু চি। ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।  মিয়ানমারে সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে নিয়ে তারা রোহিঙ্গাদের ওপর খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ চাপিয়ে দেয়। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। গোটা সময় ধরেই এসব প্রশ্নে নীরব ছিলেন সু চি।
গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে সুদীর্ঘকাল গৃহবন্দি থাকার পর ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয় সু চির দল এনএলডি। সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে ‘দ্য লেডি’ হিসেবে পরিচিত এই নেত্রী সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে একটি ডি ফ্যাক্টো সরকার গঠন করে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নেয়। বৃহস্পতিবার ইয়াঙ্গুনের ওই বাড়িতে পেট্রোলবোমা হামলার সময় রাজধানী নেপিদোতে ছিলেন তিনি। সেখানে এনএলডি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সংসদে ভাষণ দেবেন সু চি।
সূত্র : এএফপি, বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুন