সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে সেচ

আপডেট: 03:49:47 30/03/2018



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : বিদ্যুৎ বা ডিজেলের ওপর নির্ভর না করে সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে কালীগঞ্জে সেচকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে সোলার ইরিগেশন পাম্পিং সিস্টেম। এই ব্যবস্থায় চলতি মৌসুমে বাড়তি খরচ ছাড়াই প্রায় ৭৫০ বিঘা জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।
সরকারের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের সহযোগিতায় কালীগঞ্জে এই সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ‘এইড ফাউন্ডেশন’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা।
সোলার ইরিগেশন পাম্পিং সিস্টেম ব্যবহারের ফলে কম খরচে জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে। ফলে জ্বালানি খরচ বেচে যাচ্ছে। যে কারণে লোডশেডিং এখন আর সেচকাজে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না। সেচকাজে বিদ্যুৎ ব্যবহার না করায় সেই বিদ্যুৎ অন্য কাজে লাগছে।
উপজেলার ভিটশ্বর গ্রামের কৃষক আলফা দফাদার। সোলার ইরিগেশন পাম্পিং সিস্টেমের আওতায় ছয় বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। এতদিন ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহার করে নিজের ক্ষেতে পানি সরবরাহ করতেন। প্রতি বছর দুইবার ধান চাষ করতে সেচ বাবদ প্রায় ৫৫ হাজার টাকা খরচ হতো। গত কয়েক বছর হলো সোলার প্যানেল দিয়ে পানি সেচ দেওয়ায় খরচ হচ্ছে খুবই সামান্য।
একই রকম জানালেন হরদেবপুর গ্রামের কৃষক সঞ্জয়কুমার। এবছর তার চার বিঘা জমিতে ইরি ধানের চাষ রয়েছে।
বেসরকারি সংস্থা এইড-এর সহকারী কর্মসূচি সমন্বয়কারী মো. শারফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের গ্রিন কর্মসূচির আওতায় স্থাপিত একটি পাম্পে ৯৬ থেকে ১২৭টি পর্যন্ত সৌরকোষ বা প্লেট একত্রে সংযুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে প্যানেল। ওই সৌর প্যানেলের ওপর সূর্যের আলো পড়তেই বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ তৈরি হয় এবং সংযুক্ত তারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে জমা হয়। সেই বিদ্যুৎ দিয়ে চলে একটি পাম্প। একটি সেচযন্ত্র দিয়ে সকালে সূর্য ওঠার পর থেকে বিকেল পর্যন্ত জমিতে সেচ দেওয়া যায়। সূর্যের তাপ যতই বাড়ে পানি উত্তোলনও ততই বাড়ে। প্রতিদিন একটি সৌরপাম্প থেকে নয় লাখ থেকে ১৮ লাখ লিটার পানি উত্তোলন করা হয়। সেকেন্ডে ৪৮ থেকে ৫০ লিটার ওঠে; যা দিয়ে ৪৫ থেকে ৫৫ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া যায়।’
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুল করিম জানান, এবছর উপজেলার হরদেবপুর, ভিটশ্বর, রায়গ্রাম, গুমরাইল এবং মির্জাপুরে ১৫টি সোলার প্যানেলের আওতায় প্রায় ৭৫০ বিঘা জমিতে ধান চাষ হচ্ছে। সোলার প্যানেলের উৎপাদিত শক্তি নবায়নযোগ্য। ফলে বিদ্যুৎ ও ডিজেল খরচ সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া এটা পরিবেশবান্ধব এবং খুব সাশ্রয়ে যে কোনো ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।

আরও পড়ুন